2025 সালের ডিসেম্বর থেকেই চলছিল হত্যার পরিকল্পনা। একাধিক বার বদল করা হয়েছিল খুনের দিনক্ষণ। শেষ পর্যন্ত চলতি বছরের ৬ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রাক্তন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করা হয়। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার আদালতে চার্জশিট পেশ করে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সিবিআই। তদন্তকারীদের দাবি, খুনের নেপথ্যে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চন্দ্রনাথ হত্যা মামলায় মোট 11 জনের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তাদের মধ্যে রয়েছে বিজেপি কর্মী দুই ভাই সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকর। তাদের গ্রেফতার করেছে সিবিআই। তদন্তে উঠে এসেছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে ভাড়াটে খুনি এনে চন্দ্রনাথকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল ৷ ওই ভাড়াটে খুনিদের বরাতের পাশাপাশি তাদের পারিশ্রমিক দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সোনকর ভাইদের বিরুদ্ধে।
সিবিআই সূত্রে দাবি, 2025 সালের ডিসেম্বর থেকেই চন্দ্রনাথ রথকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু নানা কারণে একাধিক বার হত্যার দিনক্ষণ পরিবর্তন করা হয়েছিল ৷ শেষ পর্যন্ত 6 মে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডে উত্তরপ্রদেশের একাধিক শুটারকে ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খুনের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েক জন ‘মিডলম্যান’-এর ভূমিকা ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম রয়েছে সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকরের। তদন্তকারীদের দাবি, 2020 সালে তাঁরা বিজেপিতে যোগ দেন ৷ তার আগে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ৷ সেই দলের এক বিধায়কের হয়ে তাঁরা কাজ করতেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। দলবদলের পর তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন হলেও, চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই। বিশেষ করে, এই হত্যার পিছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি বৃহত্তর কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখনও পর্যন্ত ছ’জন শুটারকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্ক রাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীন কুমার সিংহ। এছাড়াও খুনের বরাত পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র নামে তিন ‘মিডলম্যান’-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, শুটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বলে দাবি।
চার্জশিটে মোট 11 জনের নাম থাকলেও তদন্তকারীদের দাবি, তাদের মধ্যে এখনও এক জন অভিযুক্ত পলাতক। তার সন্ধানে তল্লাশি হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরও কেউ যুক্ত ছিল কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। চন্দ্রনাথ হত্যার মূল উদ্দেশ্য কী ছিল, কার নির্দেশে হত্যার পরিকল্পনা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও বৃহত্তর রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না—এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তদন্তের পরবর্তী পর্বে জোর দিচ্ছে সিবিআই।

