banganews.net

রাজ্যের দুই উপনির্বাচনে থাকছেন না কোনও ঘাসফুল প্রার্থী । মাত্র ২৮ বছরেই শুকিয়ে গেল ঘাসফুল! ‘আসল তৃণমূল’-কে এই লড়াই আগেই নির্বাচন কমিশনের দরবারে পৌঁছেছিল । এবার কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল নন্দীগ্রাম আর রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরের কেউই দলীয় প্রতীক ঘাসফুল ব্য়বহার করতে পারবে না । অর্থাৎ প্রতীকটি ‘ফ্রিজ’করে দিয়েছে দেশে নির্বাচন আয়োজনের নিয়ামক সংস্থা । দুটি শিবির কোন নামে নির্বাচনে লড়তে চায় সেটাও জানাতে হবে কমিশনকে । বৃহস্পতিবার রাতে কমিশনের তরফে এ কথা জানিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয় । সেখানে লেখা হয়েছে, “বিস্তারিত চর্চার পর কমিশ বুঝতে পেরেছে তৃণমূলে এখন দুটি শিবির তৈরি হয়ে গিয়েছে । এক পক্ষের নেতৃত্বে আছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় । অন্যটির প্রধান অরূপ রায় । দুটি শিবিরই দাবি করছে তারাই আসল তৃণমূল। এমতাবস্থায় দলের প্রতীক কার হাতে থাকবে তা ঠিক করতে নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত নিতে হবে । কমিশনের 1968 সালের নির্দেশনামার 15 নম্বর ধারা অনুযায়ী এই কাজ করা হবে । ” অতীতেও এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে থাকা ভিন্ন ভিন্ন শিবিরকে নিজেদের দাবি পেশ করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছিল । এবারও কমিশন সেটাই করবে । বিবৃতির একটি অংশে লেখা হয়, “এখন যা পরিস্থিতি তাতে তৃণমূলের কোনও শিবিরই দলের নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না । মানে এখন থেকে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত কোনও নির্বাচনে কেউ নিজেকে তৃণমূল প্রার্থী বলে চিহ্নিত করতে পারবেন না । দলের প্রতীক ঘাসফুল ব্যবহার করতে পারবেন না । ” ঠিক এই প্রসঙ্গে কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, আপাতত দুটি শিবিরকেই নিজেদের জন্য নতুন নাম ঠিক করতে হবে । শুক্রবার সকাল 11টার মধ্যে নিজেদের জন্য় তিনটি করে নাম বাছাই করে কমিশনের কাছে পাঠাতে হবে । এই তিনটির মধ্য়ে থেকে একটি নাম চূড়ান্ত করবে কমিশন । একইভাবে তিনটি করে প্রতীকের কথাও জানাতে হবে দুটি শিবিরকে । সেখান থেকেও একটি করে বেছে নেবে কমিশন । নন্দীগ্রাম আর রেজিনগর কেন্দ্রের জন্য় প্রার্খী ঘোষণা করেছে তৃণমূলের দুই শিবির । তবে এবার এই চারজনকেই অন্য় কোনও নাম ও প্রতীকে ভোটে লড়তে হবে ।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

১৭ সেপ্টেম্বর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশী ও সুখবীর সিং সান্ধুর বেঞ্চ ১৪ পাতার অন্তর্বর্তী আদেশটি দিয়েছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী-

  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি সরাসরি ব্যবহার করতে পারবে না।
  • অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরও ওই নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
  • কোনও শিবিরই তৃণমূলের সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ বা জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।
  • দুই শিবির নিজেদের জন্য আলাদা নাম বেছে নিতে পারবে। চাইলে সেই নামের সঙ্গে মূল দল তৃণমূল কংগ্রেসের যোগসূত্র উল্লেখ করা যেতে পারে। 
  • উপনির্বাচনে দুই গোষ্ঠীকে পৃথক মুক্ত প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।

কমিশন দুই শিবিরকেই ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে সম্ভাব্য তিনটি নাম এবং পছন্দের তিনটি মুক্ত প্রতীকের তালিকা জমা দিতে বলেছে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে তালিকাটি দিতে হবে। সেখান থেকে একটি নাম ও একটি প্রতীক অনুমোদন করতে পারে কমিশন।

আচমকা ফ্রিজ হল জোড়াফুল প্রতীক 

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র এবং অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের মনোনয়ন ঘিরেই সমস্যাটি জরুরি হয়ে ওঠে। রেজিনগরে একই দলের প্রার্থী হিসেবে দু’জন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অরূপ রায়ের স্বাক্ষরিত ‘ফর্ম বি’ নিয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন সফিউজ্জামান শেখ। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদন নিয়ে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন রবিউল আলম চৌধুরী।

নন্দীগ্রামেও একই পরিস্থিতি। অরূপ রায়ের অনুমোদিত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন এহতেশমুল হক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত ‘ফর্ম বি’ নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন সঞ্চিতা প্রধান দে। অসমের নগাঁও লোকসভা কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমোদিত তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আব্দুল সালাম।

একই দলের নাম ও প্রতীক দাবি করে প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দেওয়ায় রিটার্নিং অফিসারদের সামনে জটিলতা তৈরি হয়। কার ‘ফর্ম বি’ বৈধ এবং কে তৃণমূলের সরকারি প্রার্থী—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে, প্রতীক-বিরোধের পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষ করার মতো পর্যাপ্ত সময় কমিশনের হাতে ছিল না। উপনির্বাচনের মনোনয়ন, যাচাই, প্রত্যাহার এবং প্রতীক বরাদ্দের নির্দিষ্ট আইনি সময়সীমা রয়েছে। তাই দুই পক্ষকে আপাতত সমান জায়গায় রাখতে দলের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।