অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আপাতত অনলাইনে মিলছে ১২ পাতার ফর্ম। যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান, তাঁদেরও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্ম পূরণ করার পর মাসে মাসে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি পাবেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘এক দিনে সকলকে ফর্ম পূরণ করতে হবে, লাইনে দাঁড়াতে হবে, হুড়োহুড়ি করতে হবে, সব কাজ ফেলে আজকেই না করলে বঞ্চিত হবেন—এমন নয়। এটি একটি স্থায়ী সুবিধা সরকার দিচ্ছে আপনাদের, তার নিজস্ব কোষাগারের অর্থে। তাই আপনাদের সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। পুরো প্রক্রিয়ায় এই ব্যবস্থার সঙ্গে আপনারা থাকবেন। আমরা আপাতত ১ জুন থেকে  ৯০ দিন এই প্রক্রিয়াটি চালাব।’’ অনলাইন এবং অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ করা যাবে। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যাঁরা অনলাইন বা অফলাইনে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, সরকারি আধিকারিকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের ফর্ম পূরণে সহযোগিতা করবেন। এ ছাড়া, নবনির্বাচিত বিধায়কেরাও এই কাজে সহযোগিতা করবেন। এটা তাঁদের অন্যতম বড় কাজ হতে চলেছে। আগামী ১৫, ১৬, ১৭ তারিখ জনকল্যাণ শিবির আয়োজিত হবে। সেখানেও ফর্ম পূরণ করার বিষয়ে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

ফর্মপূরণ করতে হলে আপনার এবং আপনার পরিবারের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্য কতজন তা জানাতে হবে। প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কে, কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাও উল্লেখ করতে হবে। কেউ সরকারি পেনশনভোগী রয়েছেন কিনা, তাও জানাতে হবে। কেউ আয়কর দেন কিনা, সে তথ্যও জানাতে হবে। বলে রাখা ভালো, আয়কর জমা দেন এমন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করতে পারবেন না। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের সঙ্গে প্রত্যেকের আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে। তবে ৫ বছরের নিচে কেউ থাকলে, তার আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে না। জমা দিতে হবে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এছাড়া প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সম্পর্কিত তথ্যও ওই আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। শুধু তাই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে উল্লেখ করতে হবে আপনি কিংবা আপনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য। পরিবারের কারও কোনও স্বাস্থ্য়বিমা থাকলে, তাও উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের খুদে সদস্যের টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে। সে সরকারি নাকি বেসরকারি স্কুলে পড়ে, তাও জানাতে হবে ওই ফর্মে। পারিবারিক বার্ষিক আয়ও উল্লেখ করা অত্যাবশ্যক। 

আগেই রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে সিএএ আবেদনকারীরাও অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন। ফর্মে সে সংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ করতে হবে। পরিবারটি কিষাণ ক্রেডিট কার্ড, শিল্পী ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড ও শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ডের মতো কোনও সরকারি সুবিধা পান কিনা, তাও জানাতে হবে। কোনও সরকারি পরিষেবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কিনা, তাও উল্লেখ করা প্রয়োজন। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পর অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে।

এই লিংকে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ডাউনলোড করতে পারবেন >>