সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে গ্রেফতার করা হল সোনা পাপ্পু ঘনিষ্ঠ বেহালার ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে ৷ তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে তাঁর বয়ানে । সেই ভিত্তিতেই আরও কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় ইডি ৷ পরে ব্যবসায়ীর পরিবার ও তাঁর আইনজীবীকে ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, বেআইনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি । ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলার সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগ থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই সেই দিকটিও খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে । তদন্ত এগোলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে । ভোটের আবহে আবারও শহরে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা । রবিবার সকালে বেহালার জ্যোতিষ রায় রোডে ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়িতে হানা দেয় ইডি ৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে ইডি আধিকারিকরা যখন প্রথমে ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের বাড়িতে আসেন, তাঁরা সেখানে ঢুকতে পারেননি ৷ তাই তাঁদের বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ৷ এর প্রায় আধঘণ্টা পর তাঁদের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং আধিকারিকরা ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢোকেন । এই ব্যবসায়ীর বাড়িতে এর আগেও তল্লাশি চালায় ইডি ৷ সেসময় তাঁর এই বাড়ি থেকেই এক কোটি কুড়ি লক্ষ টাকা ইডির আধিকারিকরা বাজেয়াপ্ত করেছিলেন ৷ সেই ঘটনায় জয় কামদারকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার দরকার আছে বলে রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে ফের আসে ইডি ৷ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বেশ কয়েকজন জওয়ান বাড়ি ঘিরে রাখেন ৷ আর ভেতরে ইডির আধিকারিকরা তল্লাশি চালান ও জিজ্ঞাসাবাদ করেন ৷ বিভিন্ন ফাইল, নথি পরীক্ষা করে দেখেন তদন্তকারীরা । তাঁকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরও সঠিক কোনও উত্তর না মেলায় প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা পর আটক করা হয় জয় এস কামদারকে ৷ তাঁকে আটক করে সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যান ইডির আধিকারিকরা ৷ অন্যদিকে রবিবার ভোরে দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে কলকাতা পুলিশের এক ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের ফ্ল্যাটে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট । ওই পুলিশকর্তার নাম শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ৷ তিনি দীর্ঘদিন কালীঘাট থানার ওসি ছিলেন । কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এদিন ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাসভবনে সকাল 6টারও আগে পৌঁছে যায় ইডির তদন্তকারী দল । এরপর ভোর থেকেই ইডির একাধিক আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন । সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাও । দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে তল্লাশি ৷ এই তল্লাশিতে গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইলেকট্রনিক ডিভাইসও পরীক্ষা করা হয় বলে জানা গিয়েছে ।

