রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার আর্থিক পরিস্থিতির হাল ফেরাতে নয়া বাজেট পেশ করতে চলেছে বিজেপি সরকার ৷ নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন ৷ আর ২২ জুন হবে বিধানসভায় নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ ৷ পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা সামলে রাজ্যে কীভাবে ভারী শিল্প ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্ভব, তার সুস্পষ্ট দিশা মিলবে এই বাজেটে মেলে কি না, সেটাই দেখার ৷ পাশাপাশি, নতুন ও পুরনো সামাজিক প্রকল্পগুলিতে কতটা জোর দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জন্য কী কী নতুন বিষয় সামনে আনা হবে এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ আগামী দিনে কোন পথে এগোবে, তারও জবাব খোঁজা হচ্ছে এই মেগা বাজেটে ৷ ​বাজেট প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে সোমবার নবান্নে সমস্ত দফতরের সচিবদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ সূত্রের খবর, এই বৈঠকে রাজ্যের আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর কড়া নজরদারির বার্তা দেওয়া হয়েছে ৷ প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাজকোষের যেকোনও ধরনের অপচয় অবিলম্বে রুখতে হবে ৷ সরকারি ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে কীভাবে রাজ্যের নিজস্ব আয় বাড়ানো যায়, দ্রুত তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, সেই উদ্বৃত্ত অর্থকে রাজ্যের হাইওয়ে, উড়ালপুল এবং বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার রূপরেখাও এ দিনের বৈঠকে বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয় ৷ আটকে থাকা পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিকে দ্রুত শেষ করাই এখন নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানা যাচ্ছে ৷ ​রাজ্যের ঝিমিয়ে পড়া শিল্পক্ষেত্রে এবং বণিকসভাগুলিতে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার ৷ নবান্ন সূত্রে খবর, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, রাজ্যের প্রথম সারির বণিকসভা এবং অর্থনৈতিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কগুলির কাছ থেকে বাজেট সংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে ৷ রাজ্যের কর কাঠামোকে আরও কতটা সরল করা যায় এবং দেশ-বিদেশের নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আকর্ষণ করতে বাজেটে ঠিক কী ধরনের আর্থিক সংস্কার প্রয়োজন, তা শিল্পপতি ও বণিকসভাগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে ৷ ​সব মিলিয়ে, আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হওয়া এই বাজেট অধিবেশনে শাসকদলের সামনে জোড়া চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ৷ একদিকে যেমন রাজ্যকে ঋণমুক্ত করে আর্থিক বৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার রূপরেখা পেশ করতে হবে, তেমনই বিধানসভার অন্দরে বিরোধী শিবিরের আক্রমণও সামলাতে হবে সরকারকে ৷ তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে শিল্পমহল, সকলের নজর এখন ২২ জুনের দিকে ৷ কারণ, সেদিনই বাংলার নতুন আর্থিক দিশা স্পষ্ট করবে নতুন সরকার ৷