বিরোধী দলনেতা নির্বাচনে বিধায়কদের সই জাল মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচের মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ল ৷ শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দের আদালত সিআইডির সই জাল মামলায় অভিষেককে একমাসের জন্য রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছেন ৷ আগামী বৃহস্পতিবার ফের এই মামলার শুনানি ৷ উল্লেখ্য, গত ১১ জুন বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দেওয়ার পাশাপাশি ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন ৷ তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে বলে নির্দেশে জানিয়েছিলেন ৷ এদিন সেই নির্দেশের সময়সীমা ফের এক মাস বাড়িয়েছেন বিচারপতি ৷ ফলে আপাতত আরও এক মাসের জন্য স্বস্তি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ আপাতত তাঁকে গ্রেফতার বা তাঁর বিরুদ্ধে অন্য কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না সিআইডি ৷ এদিকে এদিনই বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করার বিরুদ্ধে মামলার শুনানি শেষ হয়েছে ৷ রায়দান স্থগিত রেখেছে বেঞ্চ ৷ এই মামলায় একক বেঞ্চের নির্দেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আপিল করেছিলেন ৷ স্পিকারের রথীন্দ্র নাথ বসুর তরফে রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে 58 জনের সই করা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে অধ্যক্ষ 3 জুন বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৷ পাল্টা বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “১৯ মে যে চিঠি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল, সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে, চুপচাপ ছিলেন স্পিকার ৷ তারপর কাউকে কিছু না-জানিয়েই স্পিকার ৩ জুন নিজের চেম্বারে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন ৷ স্পিকার সবাইকে অন্ধকারে রেখে একজন বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করে দিয়েছেন ৷ একজনকে এইভাবে পক্ষপাত করা সম্পূর্ণ বেআইনি ৷” তাঁর আর্জি, একক বেঞ্চের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি স্পিকারের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ খারিজ করা হোক ৷ উল্লেখ্য এর আগে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চ এই মামলায় স্পিকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেননি ৷