গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে সংঘর্ষ ও গুলি চালানোর ঘটনার তদন্তে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আনছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) । তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ঘটনার প্রায় 15 দিন আগেই কসবার ত্রাস হিসেবে পরিচিত সোনা পাপ্পু একটি বিদেশি পিস্তল কিনেছিলেন । ইডির অভিযোগ, এই অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধৃত জয় এস কামদারের । তদন্তে ইডির দাবি, ব্যবসায়ী জয় এস কামদারের সংস্থার মাধ্যমেই বিদেশি পিস্তলটি সংগ্রহ করা হয়েছিল । যদিও অস্ত্রটির লাইসেন্স ছিল সোনা পাপ্পুর স্ত্রীর নামে ৷ তদন্তকারীদের অভিযোগ, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওই অস্ত্র সোনা পাপ্পুর হাতে পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন জয় । এই লেনদেন এবং অস্ত্র সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া এখন ইডির তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে । মার্চ মাসে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে ৷ পরে সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করে ইডি । সেইসময় গুলি চলার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই আত্মগোপন করেন সোনা পাপ্পু । দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে খুঁজছিল তদন্তকারী সংস্থাগুলি । পরে জমি দুর্নীতি-সহ আর্থিক তছরূপের মামলা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় ৷

ইডির দাবি, ওই ঘটনার আগে বিদেশি পিস্তল কেনার বিষয়টি নিছক কাকতালীয় নয়, বরং গোটা ঘটনার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে । তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে । অস্ত্রটি কীভাবে কেনা হয়েছিল, লাইসেন্সের আড়ালে তার ব্যবহার কী ছিল এবং এই অস্ত্র কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে । ইডির মতে, জয় এস কামদার এবং সোনা পাপ্পুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল । সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই অস্ত্র কেনা থেকে শুরু করে অন্যান্য আর্থিক ও অপরাধমূলক লেনদেনের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা । ইতিমধ্যেই এই মামলায় একাধিক নথি, ডিজিটাল তথ্য এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে তদন্তকারী সংস্থা ।

ইডির দাবি, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সোনা পাপ্পু ও জয় এস কামদারের যোগসাজশের নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে । তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতেই বিচারাধীন থাকবে । ধৃত জয় এস কামদারের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসি বর্তমানে ইডির হেফাজতে থাকা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ব্যবসায়িক সম্পর্কের হদিশ পেয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার গোয়েন্দারা । শুধু জয় এস কামদার নয়, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গেও ধৃত সোনা পাপ্পুর যোগ রয়েছে বলে দাবি ইডির ।