ভারত বিশ্বের কাছে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উঠে আসছে। বৃহস্পতিবার এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশ এমন সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করছে যা আগামী প্রজন্মের জন্য আর্থিক বৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও নতুন সুযোগের পথ প্রশস্ত করবে। প্যারিসে বসবাসকারী ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সময় মোদি আরও জানান, ভারতের যাত্রাপথে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন মানুষের আকাঙ্ক্ষা নতুন উচ্চতায় পৌঁছচ্ছে। ফরাসি রাজধানীর অন্যতম বৃহত্তম ইনডোর ভেন্যু ‘সাল প্লেয়েল’-এ আয়োজিত সমাবেশে মোদি বলেন, “একটা সময় ছিল যখন বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হতো ৷ কিন্তু, আজ বাণিজ্যের পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিটি দেশই একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন চায়। প্রতিটি দেশই স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব চায়। প্রতিটি দেশই এমন অংশীদার খুঁজছে যাদের উপর দীর্ঘমেয়াদে আস্থা রাখা যায়— আর ঠিক এমন এক সময়ে ভারত বিশ্বের কাছে একটি বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে উঠে আসছে।” মোদি জানান, এভিয়ানে অনুষ্ঠিত জি-7 (G7) বৈঠকে তিনি আস্থার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা অংশীদারিত্বের গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জি-7 শীর্ষ সম্মেলনে ভারতের বার্তা ছিল স্পষ্ট ৷ বিশ্ব শাসনব্যবস্থা তখনই কার্যকর হবে যখন তা অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে ৷ বিশ্ব প্রবৃদ্ধি তখনই টেকসই হবে যখন তার সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হবে ৷ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানবতার প্রকৃত কল্যাণ তখনই সাধিত হবে যখন তার ওপর আস্থা রাখা যাবে।” মোদি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব বর্তমানে অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কঠিন সময়ে ফ্রান্স ও ভারতের মধ্যকার অংশীদারিত্ব আস্থা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতার এক শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও জানান যে, উভয় দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘বিশেষ আন্তর্জাতিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে উন্নীত করেছে। তিনি জানান, আগামী বছর দুই দেশ যৌথভাবে ‘ত্রিশ্না’ (TRISHNA) উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। তিনি যোগ করেন, “এই উপগ্রহটি বিশ্বে জল ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।” মোদি জানান, তিনি এমন এক সময়ে ফ্রান্সে এসেছেন যখন তাঁর সরকারের 12 বছর পূর্ণ হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা 12 বছর ধরে দেশের সেবা করা আমার জীবনের এক পরম সৌভাগ্য। এটি ভারতের গণতন্ত্রেরই শক্তি, যা একজন চা বিক্রেতাকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।”