রাতভর সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকে থমথমে পরিবেশ উত্তর 24 পরগনার জগদ্দল থানা চত্বরে । সংঘর্ষে জড়িত অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে । বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তথা সিআইএসএফ জওয়ান আহত হওয়ার ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ উত্তেজনা থাকায় জগদ্দল থানা চত্বর-সহ স্পর্শকাতর বিভিন্ন এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল চলছে । এক আধিকারিক জানান, আহত ওই জওয়ানের নাম যোগেশ শর্মা । তিনি প্রবীণ বিজেপি নেতা অর্জুন সিংয়ের ছেলে পবন সিংয়ের নিরাপত্তা দলের সদস্য ছিলেন । জওয়ানের পায়ে গুলি লেগেছে এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৷ নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তলব করেছে ৷ অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিটি কে চালিয়েছিল তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি ।
বুধবার রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ । সোমে ভাটপাড়া ব্যারাকপুরে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তার আগেই রবিবার রাতে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জগদ্দল থানা চত্বর । বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার রাতে জগদল থানায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়েছিলেন । তখন তৃণমূলের দুই কাউন্সিলর সৌরভ সিং ও মনোজ পান্ডের নেতৃত্বে থানার সামনেই বিজেপির কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ । বিজেপি সমর্থকরাও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন । থানার সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল ইটবৃষ্টি শুরু হয় । অভিযোগ, ওই গোলমালের মধ্যেই একদল দুষ্কৃতী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংয়ের ছেলে তথা বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ও গুলি ছোড়ে । তাতে পবনের দেহরক্ষী এক সিআইএসএফ জওয়ান গুলিবিদ্ধ হন । কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে । পরিস্থিতি সামাল দিতে রাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হয় । গভীর রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে । এরপর সকাল হতেই পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে । সকাল ১০টা পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে । পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের নাম কৌশিক দাস, সিকান্দার প্রসাদ, গোপাল রাউত ও শ্যামদেব প্রসাদ । সংঘর্ষে জড়িত অনেকেই এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছে । ধৃতদের ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছে । প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে আমাদের দলের প্রার্থী রাজেশ সিংয়ের উপর থানার সামনে হামলা চালিয়েছে । পুলিশের সামনেই হামলা হয়েছে । আমার ছেলের দেহরক্ষীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে । বোমাবাজি করা হয়েছে । কিন্তু পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি ।”

