লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড়সড় রদবদল ঘটালেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ নয় মাস পর লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (চিফ হুইপ) পদে ফেরানো হল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদারকে। আজ, বৃহস্পতিবার কালীঘাটে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজনৈতিক মহলের মতে, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে খারাপ ফল এবং পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদারের ‘বিদ্রোহের’ জোড়া ধাক্কাতেই পদ খোয়াতে হল কাকলিকে। ঘটনাচক্রে, বিধানসভা ভোটের সমীকরণে বারাসত এবং শ্রীরামপুর— দুই লোকসভা কেন্দ্রের চিত্রই প্রায় এক। দুই কেন্দ্রেই সাতটি বিধানসভার মধ্যে মাত্র দু’টিতে জিতেছে তৃণমূল, বাকি পাঁচটি আসন গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। কিন্তু ভোটের এই পাটিগণিত ছাপিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে কাকলিকে টেক্কা দিয়ে গেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর নেপথ্যে মূলত দুটি কারণ দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। প্রথমত, এসআইআর (SIR) থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্টে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও আইনি টানাপড়েনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াকু ভূমিকা মমতার বিশেষ প্রশংসা কুড়িয়েছে। দ্বিতীয়ত, দুই সাংসদ-পুত্রের বিপরীতমুখী অবস্থান এই সিদ্ধান্তে অনুঘটকের কাজ করেছে। উত্তরপাড়া কেন্দ্র থেকে হেরে যাওয়ার পরেও কল্যাণের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রতি অনুগত থেকে আইনি পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, বিধানসভায় দলের ভরাডুবির পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করে সিপিএম নেতৃত্ব এবং মহম্মদ সেলিমের প্রশংসা করেছেন কাকলি-পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার। তাঁর এই ধারাবাহিক নেতিবাচক মন্তব্যে দল চরম বিড়ম্বনায় পড়ে। নেটাগরিকদের কুরুচিকর আক্রমণের মুখেও পড়তে হয় দলকে।সূত্রের খবর, বিধানসভা ভোটের সময় কাকলির ভূমিকা নিয়েও ক্ষুব্ধ ছিলেন নেত্রী। আর সেই কারণেই বারাসতের সাংসদকে সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যত গুরুত্বহীন করে দেওয়া হল। পদ হারানো নিয়ে কাকলি অবশ্য সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি।

