অশান্ত মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে অস্বাভাবিক মৃত্যু ও যৌন নির্যাতনের ভুরি ভুরি অভিযোগে সেখানকার প্রশাসনের উপর ক্ষুব্ধ দেশের শীর্ষ আদালত। মণিপুর সরকারকে ভর্ৎসনা করে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে ২৫টি রহস্যমৃত্যুর বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে মৃতদের ময়নাতদন্ত ও মৃত্যুর কারণও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে ২০২৩ সালে মণিপুরের হিংসার সঙ্গে সম্পর্কিত যৌন নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণিপুরের জাতি হিংসার জেরে জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের নেতৃত্বাধীন কমিটির একটি রিপোর্ট উল্লেখ করেন প্রধান বিচারপতি। ওই রিপোর্টে ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া লোকজনের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি সূর্য কান্ত। প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মিত্তলের নেতৃত্বাধীন কমিটি গত ৪ জুলাই ২৫টি অস্বাভাবিক বা রহস্যমৃত্যু নিয়ে মণিপুর সরকারের কাছে বিভিন্ন তথ্য জানতে চেয়েছিল। সেই সব তথ্য নিয়েও মণিপুরের অ্য়াডভোকেট জেনারেলকে প্রশ্ন করা হয় শুনানিতে।প্রধান বিচারপতি অ্যাডভোকেট জেনারেলের উদ্দেশে বলেন, ‘মুখ্যসচিবকে বলুন আদালতকে কঠোর কোনও নির্দেশ দিতে বাধ্য না করতে।’ সূত্রের খবর, প্রাক্তন বিচারপতি মিত্তলের নেতৃত্বাধীন কমিটি তাদের রিপোর্ট মণিপুরের হিংসায় ৬৪০ জনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মণিপুরের আট জেলার ত্রাণ শিবিরে ওই সব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তার মধ্যে ময়নাতদন্ত হয়েছে মাত্র ২০ জনের। অথচ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফৌজদারি মামলা দায়ের হয়েছিল। এ দিন প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, কী কারণে মাত্র ২০ জনের ময়নাতদন্ত হয়েছে।