সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পর্যালোচনামূলক বৈঠকের পরই জারি হল নতুন বিজ্ঞপ্তি। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বা মুখ্যসচিবের দায়িত্বে নিয়ে আসা হলো মনোজ আগরওয়ালকে (Manoj Agarwal)। মনোজ আগরওয়াল মূলত লাইমলাইটে আসেন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) হিসেবে। তাঁর অধীনে রাজ্যে নির্বাচন মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ছিল।  এবার সেই ‘দক্ষ’ প্রশাসককেই নবান্নের চাবিকাঠি সঁপে দিল নতুন সরকার। নির্বাচন চলাকালীন নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে মুখ্যসচিব করা হয়েছিল ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে। সরকার পরিবর্তনের পর তাঁকে এবার

দিল্লিতে রাজ্যের রেসিডেন্ট কমিশনার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই রদবদল। সোমবার সকালেই নবান্নে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকে মনোজ আগরওয়ালের উপস্থিতি দেখেই অনেকের মনে খটকা লেগেছিল। কারণ, তখনও তিনি প্রযুক্তিগতভাবে সিইও পদের দায়িত্বে। কারণ ২১ মে ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনের আছে। কেন্দ্রীয় কমিশন তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় এবং নবান্ন তাঁর নিয়োগপত্র প্রকাশ করে। এই নিয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। গত বছর ৪ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে শুরু হওয়া ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) চলাকালে আগরওয়াল তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, অন্যদিকে টিএমসি বিজেপির পক্ষে পক্ষপাতিত্ব এবং ‘পক্ষপাতমূলক আচরণের’ অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেছে। বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন টিএমসির ঊর্ধ্বতন নেত্রী চন্দ্রমা ভট্টাচার্য আগরওয়ালের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি পুরনো সিবিআই মামলার উল্লেখ করেন।

বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবীয় বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আমলা নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘন করত, কিন্তু বর্তমান সরকার আইনের শাসন মেনে যোগ্য ব্যক্তিদের সঠিক স্থানে বসাচ্ছে। উল্লেখ্য, শপথ গ্রহণের দিনই নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্তকে নিজের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ফলে দেখা যাচ্ছে, যারা নির্বাচনের সময় কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছেন, তাঁদের ওপরই আস্থা রাখছে নতুন সরকার।