banganews.net

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন মীরা ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার বাড়ি ফিরলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী। গত শুক্রবার পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। চিকিৎসক সৌতিক পণ্ডার তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। ছাড়া পেলেও আপাতত তাঁকে নিয়মিতস চিকিৎসার মধ্য়েই থাকতে হবে । হাসপাতাল সূত্রে খবর, চিকিৎসার পর বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা আগের থেকে অনেকটা স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এদিন তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় মীরা জানান তিনি এখন ভালো আছেন । হাসপাতালে ভর্তির সময় মূলত পেটের ডান দিকে ব্যথা অনুভব করছিলেন । তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সিটি স্ক্যানও করা হয় পেটের বিভিন্ন অংশ। কোলোনস্কপিও করা হয়েছে তাঁর । পরীক্ষায় ডান দিকে বড় কোনও সমস্যা ধরা না পড়লেও পেটের বাঁ দিকে একটি পুরু আস্তরণের উপস্থিতি নজরে আসে। চিকিৎসকরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে পেটের ব্যথা কমে আসে। এরপর রুটিনমাফিক রক্ত পরীক্ষাও করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং চিকিৎসায় সাড়া কেমন মিলছে, তা খতিয়ে দেখেন। হাসপাতাল সূত্রে আগেই জানানো হয়েছিল, পরিস্থিতির উন্নতি হলে মঙ্গলবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। সেই মতো এদিন সমস্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাঁকে ছুটি দেওয়া হয়। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার সময় তাঁরৃ কাছে জানতে চাওয়া হয় “আপনি তো কিছুই খান না। কেন এরকম করেন ? ” তার উত্তরে বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে তিনি বলেন, “কিছু না খেলে তো মরেই যেতাম, আমি অল্প খেতাম।” মীরা ভট্টাচার্যের পরিচয় শুধুমাত্র প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী হিসেবে নয়। সমাজসেবী হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁকে সরব হতে দেখা গিয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানানো থেকে শুরু করে আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়া—একাধিক ক্ষেত্রেই সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন তিনি। সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের সক্রিয় রাজনীতিতে তাঁকে দেখা না গেলেও বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি নজরে এসেছে। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর এবার বাড়ি ফিরলেন বুদ্ধ-জায়া ।