বাসের মধ্যে থরে থরে সাজানো টাকার বান্ডিল ৷ ব্যাগ খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের ৷ অসম-বাংলা সীমানায় বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস থেকে উদ্ধার হল মোট 22 লক্ষ 50 হাজার টাকা । শুক্রবার বক্সিরহাটের ভাঙা পাকরি নাকা চেকিং পয়েন্টে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে ওই বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা । টাকার বান্ডিলগুলি উদ্ধার করেছে বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশ ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসম থেকে বাংলাতে ঢুকছিল ওই বাসটি । ভাঙা পাকরি নাকা চেকিং পয়েন্টে নিয়মমাফিক তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশের নজরে আসে একটি ব্যাগ । ব্যাগটির কোনও দাবিদার না থাকায় সন্দেহ আরও বাড়ে । এরপর ব্যাগটি খুলে তল্লাশি চালাতেই ভিতর থেকে থরে থরে সাজানো 22 লক্ষ 50 হাজার টাকা উদ্ধার হয় । টাকা উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে শোরগোল পড়ে যায় । খবর দেওয়া হয় বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশকে । পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে টাকা উদ্ধার করে এবং বাসটির চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে । বাসে থাকা যাত্রীদেরও টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর । কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “অসম থেকে আসা সমস্ত বাসেই তল্লাশি চালানো হয় । এরই মধ্যে নির্দিষ্ট খবর ছিল বিলাসবহুল ওই বাসে কিছু থাকতে পারে । এরপর তল্লাশি চালানোর সময় ওই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয় । উদ্ধার হওয়া 22 লক্ষ 50 হাজার টাকা কোথা থেকে এসেছিল, কার কাছে যাওয়ার কথা ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল-তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ । এই টাকার সঙ্গে কোনও বেআইনি লেনদেন বা অন্য কোনও অপরাধমূলক যোগ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে ।” জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাসে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার টাকা কেউ দাবি করেনি । এরপর বাসের চালক ও খালাসিকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁদের কথাবার্তা সন্দেহজনক হওয়ায় গ্রেফতার করা হয় । ধৃতরা হলেন আজিনুদ্দিন মিয়া, নাসিরুদ্দিন শেখ । এদের মধ্যে আজিনুদ্দিন মিয়ার বাড়ি আলিপুরদুয়ারের খোয়ারডাঙা এলাকায় । অপরদিকে নাসিরুদ্দিন শেখের বাড়ি অসমের কোকরাঝাড়ে ৷ ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে ।

