প্রাক্তন বায়ুসেনাকর্মী, ৮ বছর ধরে শুভেন্দুর সব সামলাতেন
মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ৷ মধ্যমগ্রামের দোহারিয়াতে শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসায়ককে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। বাইকে করে এসে স্করপিও গাড়িতে থাকা চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয় বলে অভিযোগ৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথ রথের৷ রাতে নিজের ফ্ল্যাটে ফেরার পথে খুব কাছেই খুন হন চন্দ্রনাথ।ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে মধ্যমগ্রাম এবং এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ৷ বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে গাড়ি ঘিরে ধরে পরপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। চন্দ্রনাথ রথ মারা গিয়েছেন। আর একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় নার্সিংহোমে ভর্তি।মধ্যমগ্রাম চৌমাথা ভিবাসিটি নার্সিংহোমে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনার খবর পেয়ে মধ্যমগ্রামে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী৷
যাঁরা শুভেন্দু অধিকারীকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁরা সবাই চন্দ্রনাথকে চেনেন। চন্দ্রনাথ রথ। শুভেন্দুর ফাইল নিয়ে যাওয়া, শুভেন্দুর মিটিং-মিছিলের প্ল্যানিং করা। সবটাই করতেন চন্দ্রনাথ। বিগত ৮ বছরের সম্পর্ক ছিল শুভেন্দুর। প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী ছিলেন চন্দ্রনাথ রথ। বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের পুলুপ এলাকার ঈশ্বরপুর ৫ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল তাঁদের। তখন থেকেই বিশেষ আস্থাভাজন ছিলেন চন্দ্রনাথ। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তদারকি করাই ছিল চন্দ্রের কাজ। সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পরে ২০১৮ সালে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কর দায়িত্ব নেন তিনি। ২৬-এর নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই চন্দ্রনাথ নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি শুভেন্দু বিরোধী দলনেতা হওয়ার পর কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর সবরকম কাজও তদারকি করতেন তিনিই। চণ্ডীপুরের বাড়িতে চন্দ্রনাথের পরিবারে রয়েছেন তাঁর মা। বাংলায় যখন নতুন সরকারের শপথ নেওয়ার আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় বাকি, তখনই গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল সেই চন্দ্রনাথের দেহ। তদন্তে নেমে পুলিশের ডিজি বলেন, “ব্যবহৃত গাড়ির নম্বর প্লেট ভুয়ো। যে নম্বর প্লেটটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটি শিলিগুড়ি আরটিও থেকে রেজিস্ট্রেশন হওয়া অন্য একটি গাড়ির নম্বর”। শিলিগুড়ির গাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে তার গাড়ি শিলিগুড়িতে আছে। এই নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় একটি চার চাকা গাড়ি, দুটো বাইক ব্যবহার করে আততায়ীরা। ব্যবহৃত চার চাকা গাড়ির নম্বর প্লেটের সঙ্গে গাড়ির চ্যাসিজ নম্বরও বদলানো হয়েছে। চ্যাসিজ নম্বর বিকৃত করা হয়েছে। ইঞ্জিন ও গাড়ির ভিতরে থাকা দুটো জায়গা লেখা চ্যাসিজ নম্বর ঘষে তুলে ফেলা হয়েছে। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে তদন্তের জন্য।

