সোমবারই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলন থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই শীর্ষ সম্মেলনের সমান্তরালে ৩১ অগস্ট চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছিলেন মোদী। তিনি দেশে ফেরার পরের দিনই, মঙ্গলবার সরকারি ভাবে চিনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন পাকিস্তানি সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। পহেলগাম হামলা এবং সাধারণ ভাবে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে এক যৌথ ঘোষণাপত্র জারির মাধ্যমে শেষ হয়েছে SCO শীর্ষ সম্মেলন। SCO শীর্ষ সম্মেলনের তাঁর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন, ‘কিছু দেশ’-এর নীতির অংশ হলো সন্ত্রাসবাদ। তবে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট ভাবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকী SCO গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য হিসেবে সেই ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরও করেছে পাকিস্তান। ঘোষণাপত্রে সরাসরি পহেলগামের উল্লেখকেই ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক জয় বলে দাবি করছে মোদি সরকার। কিন্তু সত্যিই কি একে কূটনৈতিক সাফল্য বলা যায়? প্রশ্ন তুলে দিল মুনির-জিনপিংয়ের এ দিনের বৈঠক। শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে থাকলেও, বর্তমানে সেই দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান, সবচেয়ে প্রভাবশালী হলেন আসিম মুনির। কাজেই তাঁর সঙ্গে চিনা প্রেসিডেন্টের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই বৈঠকের পরে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং জানিয়েছেন, আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের জন্য চিন-পাকিস্তান শক্তিশালী সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশিসূলভ আচরণের মডেল হিসেবে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে তুলে ধরেছেন। চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোর এবং চিন-পাকিস্তান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আরও উন্নত করতে বেজিং আগ্রহী বলেও জানান তিনি। অর্থাৎ, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির মধ্যেই বেজিং স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল, পাকিস্তানের সঙ্গ তারা ছাড়বে না।

