কলকাতা সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ দমদম বিমানবন্দরে থেকে প্রথমে নবনির্মিত যশোর রোড মেট্রো স্টেশনে পৌঁছন তিনি। ইয়েলো লাইনের (নোয়াপাড়া-বারাসত) নোয়াপাড়া থেকে জয়হিন্দ বিমানবন্দর অংশে মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন তিনি । এখান থেকেই ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর) হেমন্ত মুখোপাধ্যায় স্টেশন (রুবি) থেকে বেলেঘাটা স্টেশন এবং গ্রিন লাইনের (সেক্টর ফাইভ-হাওড়া ময়দান) এসপ্ল্যানেড স্টেশন থেকে শিয়ালদা স্টেশন মেট্রো চলাচলের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মোদি ৷ তারপর যশোর রোড মেট্রো স্টেশন থেকে দমদম সেন্ট্রাল জেলের মাঠে সভাস্থলের দিকে রওনা দেয় প্রধানমন্ত্রীর কনভয় ৷ বঙ্গ সফরে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে মোদির ৷ দমদম সেন্ট্রাল জেল মাঠের সভাস্থল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী । শিলান্যাস করেন 6 লেনের এলিভেটেড কোনা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের । তারপর দমদমে দলীয় সমাবেশে ভাষণ দেন মোদি ৷ সমাবেশে ভাষণ এদিন অনুপ্রবেশের প্রশ্নে আরও একবার তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী । তাঁর দাবি, “বাংলায় অনুপ্রবেশ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে । ইন্ডিয়া শিবিরের সদস্যরা ভোটের রাজনীতির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের কাছে বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে । এসবের থেকে বাংলাকে রেহাই দিতে পরিবর্তন দরকার । আর এই পরিবর্তন আসবে শুধু ভোটের মাধ্যমে । বিজেপিকে ভোট দিন । অনুপ্রবেশকারীরা বাংলা ছেড়ে পালাবে । ভারতের কাছে সম্পদ কম । যুব সমাজকে উপার্জন দিতে হবে, নাগরিকদের সুবিধা দিতে হবে । অনুপ্রবেশকারীরা রোজগার কেড়ে নিচ্ছে । নাগরিকদের অধিকারে ভাগ বসাচ্ছে । মা-বোনেদের সম্মানে হাত দিচ্ছে। তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে ।” প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “আমরা জানি, আমাদের দেশের কোনও সরকারি কর্মী গ্রেফতার হওয়ার 50 ঘণ্টার মধ্যে জামিন না-পেলে তাঁর চাকরি চলে যায়। কিন্তু কোনও মুখ্যমন্ত্রী, অন্য মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন কোনও আইন নেই। এখন অনেকে জেল থেকে সরকার চালানোর চেষ্টা করছেন ৷ বাংলার লোকেরা দেখেছেন, এখানকার এক মন্ত্রী গ্রেফতার হয়েছিলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে । তবু তিনি পদ ছাড়তে চাননি । রেশন দুর্নীতিতে গ্রেফতার হওয়া মন্ত্রীও পদ ছাড়তে চাননি । এ ধরনের লোকেদের কি পদে থাকার অধিকার আছে ? আমরা দেখেছি, মুখ্যমন্ত্রী জেলে গিয়ে সরকার চালাচ্ছেন । এটা সংবিধানের অপমান । মোদি সংবিধানের অপমান হতে দেবে না । আর তাই আমরা এমন বিল এনেছি, যেখানে অন্য মন্ত্রী তো বটেই প্রধানমন্ত্রীও গ্রেফতার হওয়ার পর জামিন না-পেলে তাঁরও পদ চলে যাবে।”