সোমবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ হঠাৎই পুলিশের প্রবেশ ঘিরে শোরগোল পড়ে গেল। সাদা উর্দিধারী এবং সাধারণ পোশাকের কয়েক জন পুলিশকর্মী ওই বাসভবনে প্রবেশ করেন। কিছু ক্ষণ তল্লাশির পর বাড়ির ভেতর থেকে একটি মনিটর নিয়ে তাঁদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, যা পরে ‘কলকাতা পুলিশ’ লেখা একটি সাদা গাড়িতে তোলা হয়। ঠিক তার পরেই গ্যারেজ থেকে একটি গাড়ি বেরিয়ে যায়, যা ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে নথিভুক্ত। অভিষেকের এই বাড়িতে পুলিশি অভিযান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধন্দ। গত কয়েক দিনে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল হয়েছে। ভোটের ফলঘোষণার দু’দিন পর থেকেই তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয় এবং বাসভবনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও গার্ডরেল সরিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি তাঁর দীর্ঘদিনের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনেই এখন থেকে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। এই ঘটনার আবহেই অভিষেকের বিরুদ্ধে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলেছে কলকাতা পুরসভা। লতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’-এর নামে পাঠানো নোটিসে পুর আইন, ১৯৮০-এর ৪০০(১) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। হরিশ মুখার্জি রোডের ওই সম্পত্তিটির কর ‘মালিক-অধিকৃত’ হিসেবে দেওয়া হলেও, পুরসভার দাবি সেখানে অন্য ব্যক্তিরা বসবাস করছেন। এই জট কাটাতে এবং সম্পত্তির নথিপত্র জমা দিতে ১০ দিনের সময় চেয়েছে ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’। শুক্রবার এই বিষয়ে প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারিয়ে অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ঠিক কোন অংশটি অবৈধ তা যেন নির্দিষ্ট করে জানানো হয়। পুরসভার নোটিস এবং এর পরেই অভিষেকের বাড়িতে পুলিশের এই হানা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে লালবাজারের তরফে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।