রাজ্যের আমলাদের ভরসা জিততে অভিনব উদ্যোগ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর৷ আজ সন্ধ্যায় রাজ্য সরকারি এবং কেন্দ্রীয় সরকারি আমলাদের নিয়ে নৈশভোজ সারবেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আলিপুরের সৌজন্য সভাগৃহে এই নৈশভোজের আয়োজন হয়েছে৷ এ দিন সন্ধ্যা ৬টায় সৌজন্যে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে৷ নবান্ন সূত্রের খবর, পূর্বতন সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারি আমলাদের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও দূরত্ব তৈরি হয়েছিল৷ তার মূল কারণ ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত৷ ফলে কেন্দ্রের অনেক প্রকল্প রাজ্যে কার্যকরই করা হয়নি৷ কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই কেন্দ্রের সমস্ত সামাজিক প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ ফলে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারি দফতর এবং সেখানে কর্মরত আমলাদের মধ্যে সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি৷ পাশাপাশি, আমলাদের একাংশের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে তাঁদের অত্যন্ত ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হত৷ কারণ অতীতে একাধিকবার প্রশাসনিক বৈঠক অথবা সরকারি সভা চলাকালীন প্রক্যাশেই শীর্ষস্তরের আমলাদের ভর্ৎসনা করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এমন কি, অনেক সময় সংবাদমাধ্যমে সরাসির সম্প্রচার চলাকালীনও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর তিরস্কারের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারি আমলাদের৷ সূত্রের খবর, আমলাদের মধ্যে থেকে এই ভয়ের আবহই কাটাতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরেই সচিবদের নির্ভয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি৷ আজও নবান্নে বিভিন্ন দফতরের সচিবদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পুলিশকেও একই আশ্বাস দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী৷ ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করতে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সরকারি সভায় কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য বা রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর তিনি দেবেন না৷ সরকারি সভা চলাকালীন আমলা অথবা সরকারি আধিকারিকদের নাম ধরে ডাকার রেওয়াজও তিনি বন্ধ করবেন বলে জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷

