মে মাসেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুরনিগমের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়ার পোর্টালের একাংশ । শুরু হয়েছিল বিভাগীয় তদন্ত । কর্পোরেশনের যে বিভাগ এই কাজের জন্য যুক্ত, বৃহস্পতিবার সেই বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট বিভাগে হানা দিল কলকাতা পুলিশ । এদিন কলকাতা পুরনিগমের রেকর্ড বিভাগে পুলিশের তরফে একটি প্রতিনিধি দল যায় । সেখানে তারা ঘুরে দেখে । রেকর্ডস যাচাই করে । বিভাগীয় আধিকারিকদের থেকে তথ্য জানতে চায় । এদিন কেন্দ্রীয় ভবনের সঙ্গেই একাধিক বোরো অফিসগুলোতে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট বিভাগে তল্লাশি চালায় কলকাতা পুলিশ । লালবাজার সূত্রে খবর, এদিন নিউ মার্কেট থানার পুলিশ কলকাতা পুরনিগমের কেন্দ্রীয়ভবনে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট বিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন । সেখানকার ডেটা নিয়ে নেয় । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের সেন্ট্রাল ডিভিশনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘কলকাতা পুরনিগমের জন্ম-মৃত্যু বিভাগের সমস্ত ডেটা আমরা সংগ্রহ করেছি ৷’’ কলকাতা পুরনিগমের তরফে এই অভিযান প্রসঙ্গে সরকারি ভাবে কোনও বক্তব্য এখনও মেলেনি । তবে কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে খবর, 2025 সালে 14 মে থেকে চলতি বছরের 28 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যত শংসাপত্র দেওয়া হয়ছে, সেই সবই সন্দেহের তালিকায় । এই সময়ের মধ্যে 4500-র বেশি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল । সেই সময় তৃণমূল বোর্ডের মেয়র ফিরহাদ হাকিম এসআইআর পর্বের জন্য বিশেষ শিবির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন । উপচে পড়েছিল ভিড় । মেয়র (এখন প্রাক্তন) বলেছিলেন সেই সময়, এসআইআর-এর জন্য মানুষ যাতে হয়রানি না হয়, তাই শংসাপত্র দেওয়া সংক্রান্ত পরিষেবা বাধাহীনভাবে করা হবে ৷ এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এসআইআর-পর্বে যে জন্ম এবং মৃত্যুর শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল, তা যাচাই করতে বার্থ ও ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়ার পোর্টালের একাংশ বন্ধ করে দেওয়া হয় গত মে মাসে ৷ সেই সময়ের পর যাঁরা জন্মেছেন বা যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, একমাত্র এই ক্ষেত্রগুলিতেই সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে এবং তা ডিজিটাল করার কাজ হচ্ছে ৷ পুরনো সব কাজ বন্ধ রয়েছে ৷প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্ব ছাড়াও তৃণমূল জমানায় জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া নিয়ে জালিয়াতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে ৷ এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়ে দেন যে এবার থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, পুরসভার চেয়ারম্যান এবং পুরনিগমের মেয়ররা আর জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না ৷ এবার এই কাজ করবেন সরকারি আধিকারিকরা ৷ মুখ্যসচিবের এই ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যজুড়ে এই নিয়ে অভিযান শুরু হয় ৷ কর্পোরেশন-সহ একাধিক পুরসভা-পুরনিগম-পঞ্চায়েতে এদিন অভিযান হয়েছে ৷

