রাজ্যের বেসরকারি চিকিৎসা পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর উপর নজরদারি আরও জোরদার করতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার । সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে নতুন করে ঢেলে সাজানো হল পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা ক্লিনিক্যাল এসট্যাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশন । পুরনো কমিশন বাতিল করে এই নয়া কমিশনে আনা হয়েছে একঝাঁক নতুন মুখ । বুধবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবনের তরফে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই রদবদলের কথা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে । নতুন এই স্বাস্থ্য কমিশনের শীর্ষে বসানো হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুকে । এখন থেকে তিনিই এই গুরুত্বপূর্ণ কমিশনের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সামলাবেন । পাশাপাশি, কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ আইএএস আধিকারিক মৌমিতা গোদারা বসুকে । চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়গুলি এবং রোগীদের অভাব-অভিযোগ আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য এই কমিশনে জায়গা দেওয়া হয়েছে বিশিষ্ট চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে । স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, 2017 সালের পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এসট্যাব্লিশমেন্ট আইনের 36 নম্বর ধারাকে সম্পূর্ণ মান্যতা দিয়েই গোটা কমিশনটির এই খোলনলচে বদল ঘটানো হয়েছে । চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ছাড়াও কমিশনে রাখা হয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে । চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও কমিশনের অন্যান্য নবনিযুক্ত সদস্যেরা হলেন সুভাষচন্দ্র বিশ্বাস, সুশান্তকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপ রায় এবং স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ । এই তালিকায় আরও রয়েছেন নারায়ণ চক্রবর্তী, ধনপত রাম অগ্রবাল, মধুমিতা দোবে এবং শ্যামাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ।

প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়গুলিকে আরও কড়া হাতে সামলাতে কমিশনে আনা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক গৌতমমোহন চক্রবর্তীকে । পাশাপাশি, পদাধিকার বলে রাজ্যের মেডিক্যাল এডুকেশনের ডিরেক্টরকেও এই কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে নয়া কমিশনের এই সদস্যেরা নিজেদের কাজকর্ম পরিচালনা করবেন । রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এবং চিকিৎসা পরিষেবায় স্বচ্ছতা আনতেই 2017 সালে এই কমিশন তৈরি করা হয়েছিল । ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন সদস্যদের হাত ধরে সেই নজরদারি আরও নিখুঁত হবে । স্বাস্থ্য কমিশনের পাশাপাশি রাজ্যের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতেও বড়সড় রদবদল ঘটিয়েছে নবান্ন । সম্পূর্ণ পুনর্গঠন করা হয়েছে রাজ্যের অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ কমিটিকেও । সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে জারি করা একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, গত 3 অগস্ট এই কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে । স্বাস্থ্য কমিশনের মতোই এই কমিটির মাথাতেও বসানো হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে । অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ কমিটির নয়া চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জিতকুমার বাগ । এই কমিটিতেও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিককে সদস্য হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে । সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক নবীন প্রকাশ এবং রোশনি সেন । অন্যদিকে, ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক কাঞ্চন চৌধুরীকে এই কমিটির সদস্যসচিব বা মেম্বার সেক্রেটারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে । প্রশাসনিক মহলের মতে, সরকারি কাজকর্মে আরও গতি আনতে এবং সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দিতেই রাজ্য সরকারের তরফে এই জোড়া রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।