লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা একাধিক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসতেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার । যে দলের মাথায় আছেন ডিআইজি (সিআইডি)। তদন্তকারীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, কীভাবে মহিলা উপভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অনুদান ভুয়ো পরিচয়ে অন্যদের হাতে পৌঁছল এবং এর পিছনে কোনও সংগঠিত চক্র কাজ করেছে কি না, তা খুঁজে বের করা । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিআইডির এক আধিকারিক বলেন, “আমরা সব রকমের চেষ্টা করছি ।” তদন্তকারী সূত্রে জানা যাচ্ছে, সিট ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখবে । প্রথমেই সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টগুলির সমস্ত নথি সংগ্রহ করা হবে । সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক থেকে অ্যাকাউন্ট খোলার ফর্ম, কেওয়াইসি নথি, আধার ও প্যান সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হবে । অ্যাকাউন্টধারীদের প্রকৃত পরিচয় এবং সরকারি প্রকল্পে জমা দেওয়া পরিচয়ের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে । আবেদনপত্র ও সরকারি ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা হবে SIT-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের আবেদনপত্রগুলি পুনরায় যাচাই করা । আবেদনকারীর নাম, বয়স, লিঙ্গ, ঠিকানা, আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সরকারি বিভিন্ন ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে । কোথাও ভুয়ো নথি বা জাল তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে । তদন্তকারীদের মতে, শুধুমাত্র অ্যাকাউন্টধারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হবে না । আবেদন অনুমোদনের প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করা হবে । ব্লক, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দফতরে কারা আবেদন যাচাই করেছিলেন এবং কোথায় তথ্য যাচাইয়ে গাফিলতি হয়েছে, সেই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হবে । ব্যাঙ্ক লেনদেনের ট্রেইল খতিয়ে দেখা সরকারি অনুদানের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার পর সেই অর্থ কোথায় গিয়েছে, সেটাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ।ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করে দেখা হবে টাকা নগদে তোলা হয়েছে নাকি অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে । যদি একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে অর্থ পৌঁছনোর প্রমাণ মেলে, তাহলে সংগঠিত আর্থিক জালিয়াতির দিকটিও সামনে আসতে পারে ।তদন্তকারীদের সন্দেহ, এতগুলি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকার পিছনে শুধুমাত্র আবেদনকারীরা নন, অন্য কারও সহযোগিতাও থাকতে পারে । তাই আবেদন গ্রহণ, তথ্য আপলোড এবং অনুমোদনের সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মী, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর বা স্থানীয় স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে । জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে অভিযুক্তদের ইতিমধ্যেই যাঁদের অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদান ঢোকার অভিযোগ উঠেছে, তাঁদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে । তদন্তকারীরা জানতে চাইবেন, কীভাবে তাঁদের নামে আবেদন জমা পড়ল, প্রকল্পের টাকা পাওয়ার বিষয়ে তাঁরা অবগত ছিলেন কি না এবং সেই অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে ৷ প্রাথমিকভাবে 22টি সন্দেহভাজন অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে এলেও, সিট শুধুমাত্র ওই কয়েকটি ঘটনার মধ্যেই তদন্ত সীমাবদ্ধ রাখবে না । একই ধরনের অনিয়ম অন্য জেলাতেও ঘটেছে কি না, তা খুঁজতে রাজ্যজুড়ে উপভোক্তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার সম্ভাবনাও রয়েছে । প্রশাসনিক মহলের মতে, এই তদন্তের মূল লক্ষ্য শুধু অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের কোনও বৃহত্তর চক্র কাজ করে থাকলে তার গোড়া পর্যন্ত পৌঁছনো । সেই কারণেই ব্যাঙ্ক নথি, আধার তথ্য, সরকারি ডেটাবেস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বয়ান ৷ সবকিছুকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখেই এগোবে SIT ।