ইডির তলবে সাড়া দিয়ে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হলেন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসু । শনিবার সকাল সাড়ে 10টা নাগাদ ইডি দফতরে পৌঁছন তিনি । পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দ্বিতীয়বার নোটিশ গিয়েছিল সুজিত বসুর নামে, তবে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে তিনি নিজে হাজিরা দিতে না পারায় তাঁর পরিবর্তে এদিন দফতরে আসেন ছেলে । সূত্রের খবর, তদন্তে উঠে আসা আর্থিক লেনদেন ও নথির সূত্র ধরেই ফের তলব করা হয়েছিল মন্ত্রীকে । যদিও ভোটের প্রচারে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে ইডিকে চিঠি দেন সুজিত বসু। সেই প্রেক্ষিতেই বাবার হয়ে নথিপত্র নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে আসেন সমুদ্র বসু । সিজিও থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সমুদ্র বলেন, “বাবা নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত, তাই আমি এসেছি । তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতেই এখানে আসা । নির্বাচনের পর যেদিন ডাকবে, বাবা নিশ্চয়ই হাজিরা দেবেন ।” তাঁর আরও দাবি, ইডি আধিকারিকরা নথি নিতে না চাইলেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়ে এসেছেন ।

প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি । এই মামলায় মূল অভিযুক্ত অয়ন শীল-সহ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে । তদন্তের সূত্র ধরেই সুজিত বসুর বাড়ি ও দফতর-সহ একাধিক জায়গায় হানা দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা । উল্লেখযোগ্যভাবে, 2024 সালের 12 জানুয়ারি প্রায় 14 ঘণ্টা ধরে লেকটাউনে মন্ত্রীর বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালায় ইডি । সেই অভিযানে কিছু নথি এবং মন্ত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয় । সেই সময় সমুদ্র বসুর পরিচালিত একটি ধাবাতেও অভিযান চালায় ইডি । তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছিল । যদিও সেই সময় সুজিত বসু অভিযোগ করেন, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে টার্গেট করা হচ্ছে এবং ভোটের আগে বারবার এই ধরনের অভিযান চালানো হয় । তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সাম্প্রতিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই নতুন করে তলব করা হয়েছে মন্ত্রীকে ৷ ভোটের আবহে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে । তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের ।