বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রথম সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ শপথের পর তাঁর প্রথম সরকারি কর্মসূচি ছিল জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে কবিগুরুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ৷ সেই কর্মসূচি সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বললেন, ‘‘আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সকলের৷’’ শুরুতে তিনি বলেন, ‘‘বাংলায় নতুন জাগরণের সূচনা হল৷ নতুন সরকার দায়িত্ব নিল৷ কবিগুরুকে প্রধানমন্ত্রী প্রণাম জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে শপথ নেওয়ালেন এবং আমরা দায়িত্বভার নিলাম৷ বাংলা-বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনাতে, কবিগুরুর ভাবনাতে হবে৷ তার আজ শুভ সূচনা৷ একটাই মন্ত্র স্বামীজির, চরৈবেতি, চরৈবেতি৷’’ গত কয়েকবছরে তৃণমূল কংগ্রেস বারবার বিজেপিকে বাংলা বিরোধী বলে আক্রমণ করেছে৷ এদিন সাংবাদিকদের তরফে সেই প্রশ্ন করা হয় মুখ্যমন্ত্রীকে৷ উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘ধুতি-পঞ্জাবিতে থাকা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দল, সেই দলকে কারও কাছ থেকে সার্টিফিকেট নিতে হবে না৷ আমি এখানে বিতর্কিত কথা বলব না৷ আমি মুখ্যমন্ত্রী৷ আমি এখন সকলের৷ আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক৷’’ এর পর শুভেন্দু অধিকারীর সংযোজন, ‘‘আমি শুধু বলব, যারা এখনও সমালোচনা করছেন, তাদের চৈতন্য উদয় হোক৷ আসল বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে৷ অনেক কিছু হারিয়ে গিয়েছে৷ অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে গিয়েছে৷ আমরা বাংলাকে নবনির্মাণ করতে চাই৷ এখন অনেক দায়িত্ব, এখন এই সব রাজনৈতিক কচকচানি, একে অপরের সমালোচনা করার সময় নেই৷ যা করতে চাইছে করুক৷ আমরা শুধু এগিয়ে যাব৷ উই শ্যাল ওভারকাম৷ আমরা করব জয়৷ স্বামীজির ভাষায় চরবৈতি৷’’ তিনি আরও জানান, আজকের দিন দেশ ও বাংলার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছে ছিল রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তীতে নতুন সরকার শপথ নিক৷ সেই অনুযায়ী শপথ নেওয়া হল৷ তার পর রবি ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারি কর্মসূচি শুরু হল৷ এদিন জোড়াসাঁকোতে খুব হালকা ও ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে৷ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোতে। পরনে গেরুয়া পাঞ্জাবি ও সাদা ধুতি পরে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, কলকাতা পুরনিগমের কাউন্সিলর মিনাদেবী পুরোহিত, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক-সহ আরও অনেকে। উল্লেখ্য, এদিন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক মন্ত্রী, এনডিএ শরিক দলের নেতারা, বিজেপি তথা এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপ-মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন৷

