২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। একদিকে যখন ব্রিগেডে জয়োল্লাসের মধ্য দিয়ে বাংলার কুর্সিতে বসলেন শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করল তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলনেতা (Leader of Opposition) হিসেবে দলের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শনিবার রাতে বড় ঘোষণা করল কালীঘাট। শাসক থেকে বিরোধী আসনে বসে লড়াই চালানো সহজ নয়। আর সেই কঠিন পিচে ব্যাট করতে অভিজ্ঞ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। বালিগঞ্জ থেকে জয়ী এই বর্ষীয়ান নেতার ওপরই এখন গুরুদায়িত্ব সরকার পক্ষকে বিধানসভার ভেতরে চাপে রাখা। এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের ফলের ভরাডুবি হলেও নারী শক্তির ওপর আস্থা হারায়নি দল। বিধানসভায় উপ-বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দুই পরিচিত মুখকে –
- অসীমা পাত্র: ধনেখালির জয়ী প্রার্থী, যিনি আবারও নিজের মাটি কামড়ে পড়ে থেকে জয় ছিনিয়ে এনেছেন।
- নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়: চৌরঙ্গী কেন্দ্র থেকে জয়ী এই নেত্রীকেও দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বিগত মন্ত্রিসভার বহু হেভিওয়েট সদস্য হারলেও, কলকাতা বন্দর ধরে রেখেছেন ফিরহাদ হাকিম। তাঁকে বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২৯৩-এর মধ্যে মাত্র ৮০টি আসনে থমকে যাওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা।

