রাজ্য পুলিশের ডিজি অনুরাগ ধনকড়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ত্রিপুরা পুলিশের ডিজি অনুরাগকে পুলিশের সদর দফতর অর্থাৎ নিজ অফিসের ভিতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্য আধিকারিকরা ধনকড়কে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যান ৷ কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি ৷ চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন ৷ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। আগরতলার গোবিন্দ বল্লভ পন্ত হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান প্রদীপ ভৌমিকের মতে, “এদিন বেলা 12টার দিকে রাজ্য পুলিশের প্রধানকে এখানে নিয়ে আসা হয়। ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে ৷ ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।” এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে ত্রিপুরার মুখ্যসচিব জেকে সিনহা ও স্বাস্থ্যসচিব কিরণ গিত্তে এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, কী কারণে ডিজি-র মৃত্যু হল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই তা জানা যাবে। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি ত্রিপুরা পুলিশ। অন্যদিকে, ত্রিপুরার পুলিশ প্রধান নিজের জীবন নিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে ৷ ত্রিপুরা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “একজন বরিষ্ঠ আইপিএস কর্মকর্তা যদি নিজের জীবন নেন, তাহলে তা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও এর পিছনের কারণ জানতে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।” ত্রিপুরার বিজেপি প্রধান অভিষেক দেবরায় অনুরাগ ধনকড়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন ৷ বলেন, “আজ তাঁর অফিসের ভিতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এই ঘটনার বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে। পাশাপাশি, ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। শীঘ্রই সত্য বেরিয়ে আসবে।” উল্লেখ্য, 1994 সালের আইপিএস ব্যাচের অফিসার অনুরাগ ধনকড় ত্রিপুরা পুলিশে অন্তত তিন দশক ধরে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছেন স্ত্রী ও কন্যা ৷

