আগামী সোমবার থেকে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে গাইতে বন্দে মাতরমও ৷ স্কুল শিক্ষা দফতর থেকে জারি করা এক সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সমস্ত রাজ্য পরিচালিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে ৷ আপাতত রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি চলছে ৷ প্রতিটি জেলার প্রধান শিক্ষকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ছুটির পরে স্কুল খুললেই প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি জাতীয় গান বন্দে মাতরমও গাইতে হবে। স্কুলে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’ ও এ নিয়ে রাজনৈতিক চর্চার পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে আজই উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হয়েছে ৷ এদিন শুভেন্দু বলেন, “জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্যের সমস্ত স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করতে চলেছে রাজ্য সরকার ৷ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি নবান্নে যাব। সব বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ সোমবার থেকে শুরু করতে হবে। সেই নোটিশটি জারি করব।”​ হিন্দু স্কুলের প্রধান শিক্ষক শুভ্রজিৎ দত্ত পিটিআই-কে বলেন, “গ্রীষ্মের ছুটির পর আমাদের স্কুল খুলবে ৷ সেদিন ছাত্রছাত্রীরা জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ গাইবে। এই বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই আমাদের ছাত্রছাত্রীদের ‘বন্দে মাতরম’-এর 150তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে জানানো হয়েছিল এবং তাদের বাড়িতে এর পঙক্তিগুলি আবৃত্তি করে মুখস্থ করতে বলা হয়েছিল। তাই স্কুলে যোগ দেওয়ার পর তারা জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে বন্দে মাতরমও গাইবে।” ‘বন্দেমাতরম’ রচনার 150 বছর উদযাপনের আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরাট পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর এহেন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের খবর, গত মঙ্গলবার বিকাশ ভবন থেকে রাজ্যের সব জেলা স্কুল পরিদর্শকের কাছে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। এরপর স্কুল পরিদর্শকেরাও এই নির্দেশিকা পাঠিয়েছে স্কুলগুলিতে। যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় রয়েছে স্কুলগুলি।