কলকাতায় তিনটি রুটে মেট্রোর উদ্বোধন ঘিরে যখন সাজো সাজো রব, ঠিক তখনই রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মেট্রো নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা ও ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আজ যে মেট্রো রুটের উদ্বোধন, তার পেছনে মুখ্যমন্ত্রীর কী অবদান রয়েছে সেই কথা তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি ৷ তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির কর্মকাণ্ডের ঠিক আগেই আজ ‘নস্টালজিক’ মমতা ৷ এদিন মমতা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আজ একটু স্মৃতি-তাড়িত হতে দিন । ভারতের রেলমন্ত্রী হিসেবে কলকাতায় অনেকগুলি মেট্রো রেল করিডরের পরিকল্পনা করা ও অনুমোদন দেওয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল ।” শহরের বিভিন্ন মেট্রো রুটের নাম উল্লেখ করে তিনি দাবি করেছেন, সেই রুটগুলির কাজ তাঁর হাত ধরেই এগিয়েছে ৷ মমতার কথায়, “এটা বলতে আমার কোনও দ্বিধা নেই যে, এই শহরের বিভিন্ন প্রান্তকে (যেমন – জোকা, বেহালা, তারাতলা, গড়িয়া, নোয়াপাড়া, দক্ষিণেশ্বর, বিমানবন্দর, দমদম, সেক্টর ফাইভ, ইত্যাদি) একটি মহানাগরিক মেট্রো গ্রিড-এ সংযুক্ত করার জন্য যাবতীয় কাজ – তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা, প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করা, সময়ে কাজ শুরু করা – সব কিছুই করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল । টালিগঞ্জ–গড়িয়া, দমদম–গড়িয়া, দক্ষিণেশ্বর–দমদম, সল্টলেক–হাওড়া – এই সব সংযোগেরই সূচনা আমার হাত দিয়ে । ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো রেলপথের রুটও বাস্তবসম্মতভাবে পরিবর্তন করে তার রূপায়ণের পথ আমি প্রশস্ত করি । এই সব কাজের জন্য মেট্রো রেলওয়ের একটি পৃথক জোনও আমি কলকাতায় করি । সারা ভারতে 20টি জোন ছিল, এটি অধিকন্তু নূতন হয় । ওয়ার্ল্ড ক্লাস স্টেশন তৈরির ঘোষণাও ছিল আমার ।” কলকাতা মেট্রোয় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরে গর্ব বোধ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ তিনি বলেন, “এটা আমার গর্ব, পরে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও এই প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে আমার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল । রাজ্যের তরফ থেকে বিনামূল্যে জমি দেওয়া, রাস্তা তৈরি করে দেওয়া, বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা-সহ যাবতীয় বাধা-বিঘ্ন সরিয়ে যাতে দ্রুতগতিতে কাজ সম্পন্ন হতে পারে, তার বন্দোবস্ত আমরাই করেছিলাম । রাজ্যের মুখ্যসচিবরা ধারাবাহিকভাবে একাধিক কো-অর্ডিনেশন মিটিং করেছেন, যাতে নির্বাহী বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় বজায় থাকে, কাজে সুবিধা হয় । এককথায়, রেলমন্ত্রী হিসেবে যে পরিকল্পনাগুলো করেছিলাম, সেগুলো ফিল্ডে যাতে সঠিকভাবে শেষ হয় তার ব্যবস্থাও আমরাই করেছিলাম – এই সৌভাগ্য আমার হয়েছিল ।” একথার পর মমতা স্মৃতি-তাড়িত হয়ে লিখেছেন, “মেট্রো পরিকাঠামো সম্প্রসারণ আমার একটি দীর্ঘ সফরের অন্যতম অংশ । আজ আমাকে কিছুটা নস্টালজিক হতে দিন ।”

