শহরে বড়দিন উদযাপন মানেই শহরবাসীর পার্কস্ট্রিট দর্শন। আলোর মালায় সেজে ওঠা এই এককালীন অ্যাঙ্গলো পাড়ায় হাঁটতে দূর-দূরান্ত, এমনকী শহরের বাইরে থেকেও মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। প্রতি বছরের মতো এবারের বড়দিনেও এক চিত্র সেখানে। তবে নিরাপত্তার চাদরে মোড়া পার্কস্ট্রিটে তাল কাটল বৃহস্পতি রাতে। একটা সময়ে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ে ঠেলাঠেলি-হমড়ি খেয়ে পড়ার মতো অবস্থা হয়। তবে বরাতজোরে এড়ানো গিয়েছে পদপিষ্ট পরিস্থিতি। চরম বিশৃঙ্খলারও সৃষ্টি হয়। পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও ভিড় সামাল দিতে যেন হিমশিন খাচ্ছিলেন তারা। এমনকী রাস্তায় থাকা স্টলের বই মাড়িয়েও চলে যেতে দেখা যায় জনতাকে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে নেটপাড়ায়।  এই ভিড় সামলাতে এদিন নিরাপত্তার চাদড়ে মুড়ে ফেলা পার্কস্ট্রিট৷ প্রতিবারের মতো এবারও দু’টি লেন তৈরি করে দেওয়া হয় ব্যারিকেড দিয়ে৷ একটি লেন দিয়ে পার্কস্ট্রিট ধরে অ্যালেন পার্কের দিকে যাচ্ছেন দর্শনার্থীরা৷ অন্য লেনটি ধরে অ্যালেন পার্কের দিক থেকে দর্শনার্থীরা এগিয়ে যাচ্ছেন পার্কস্ট্রিট ধরে৷ মাঝে করিডর করা হয়েছে৷ সেই জায়গায় রয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা৷ তাছাড়া আপৎকালীন রুট হিসেবেও ওই করিডরকে ব্যবহার করছে পুলিশ৷ কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়দিন উপলক্ষে পার্ক স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট, লাউডন স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি-সহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, র‍্যাফ এবং ট্রাফিক পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণে কন্ট্রোল রুম থেকে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও ভিড়ের চাপ কমাতে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু রাস্তায় যান প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে৷ প্রয়োজনে বিকল্প রুট ব্যবহার করার জন্য সাধারণ মানুষকে আগাম পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। পার্কস্ট্রিট চত্বরে অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের গণপরিবহণ ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়াও, বড়দিনের রাতে বিশেষ পেট্রোলিং, ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারি এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর কড়া নজর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, উৎসবের আনন্দ বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। সব মিলিয়ে, বড়দিনের উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন হয়, সেই লক্ষ্যেই আগেভাগে প্রস্তুত প্রশাসন ও কলকাতা পুলিশ।