হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা নিয়ে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ রবিবার ইরানকে সতর্ক করে তিনি জানান, আগামী 48 ঘণ্টার মধ্যে তারা যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়া হবে । রবিবার ভোর 5টা 14 মিনিটে (ভারতীয় সময়) ট্রুথ সোশালে পোস্ট করা এক বার্তায় ট্রাম্প লিখেছেন, “এই মুহূর্ত থেকে ঠিক 48 ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনওরকম হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালী ‘সম্পূর্ণরূপে’ খুলে না দেয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আঘাত হানবে এবং সেগুলোকে ধ্বংস করে দেবে—আর এই অভিযান শুরু হবে তাদের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দিয়েই !” তার সর্বশেষ বার্তাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন তিনি প্রায়শই নিজের কথার বিরোধিতা করছেন ৷ কখনও কখনও একই বক্তৃতায়, সোশাল মিডিয়া পোস্টে বা এমনকি একই বাক্যে । শুক্রবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরস্পরবিরোধী সংকেতের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন, যা এই সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং তার প্রশাসনের কৌশল নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে । যদিও ট্রাম্প অন্য একটি পোস্টে বলেছিলেন যে তিনি যুদ্ধ গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন তবুও তাঁর প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠাচ্ছে । পাশাপাশি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কমানোর প্রচেষ্টায়, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের তেলের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিয়েছে—যার ফলে ওয়াশিংটন ঐতিহ্যগতভাবে দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে যে চাপ প্রয়োগ করত, তার কিছুটা লাঘব হয়েছে । কর্মপন্থাগুলোর এই বিভ্রান্তিকর সংমিশ্রণ ট্রাম্পের সমালোচকদের মনে এই ধারণা আরও দৃঢ় করেছে যে, ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছে, তার পিছনে কোনও স্পষ্ট বা দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নেই । বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা যুদ্ধ এখনও এক অনিশ্চিত গতিপথেই এগোচ্ছে ৷ আর বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের কোনও বিশ্বাসযোগ্য বা সুনির্দিষ্ট পরিসমাপ্তি কেমন হবে, তা এখনও অস্পষ্ট ।