শেষ দফার ভোটের আগে প্রচারে আজই ছিল আনুষ্ঠানিকভাবে যবনিকা পতন ৷ আর শেষবেলায় কোনও রকম খামতি রাখতে চায়নি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস । প্রচারের অন্তিম লগ্নে দলের সুপ্রিমো তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই রাস্তায় নেমে প্রচারে ঝড় তুললেন । তাঁর দীর্ঘ পদযাত্রায় দলের সব স্তরের নেতানেত্রীদের পাশাপাশি বাড়তি চমক হিসেবে ছিল বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদবের উপস্থিতি । এদিন বিকেল সাড়ে 3টে নাগাদ যাদবপুরের সুকান্ত সেতু থেকে শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা রোডশো । তীব্র গরমকে উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা আগে থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন রাস্তায় । সুকান্ত সেতু থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা শুরু হতেই উচ্ছ্বাস দেখা যায় জনতার মধ্যে । এরপর মিছিল সরাসরি এসে পৌঁছায় ঢাকুরিয়া ব্রিজে । পায়ে হেঁটে এতটা পথ অতিক্রম করার পর ঢাকুরিয়া ব্রিজ থেকে একটি স্কুটিতে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী । স্কুটিতে চেপেই তিনি সোজা চলে আসেন গোলপার্ক এলাকায় । গোলপার্ক থেকে ফের শুরু হয় তাঁর দ্বিতীয় দফার পদযাত্রা । মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়াতে তিনি হেঁটে চলেন কলকাতার রাজপথে । গোলপার্ক থেকে পায়ে হেঁটে বালিগঞ্জে আসার পর, সেখান থেকে আরও একবার স্কুটিতে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী । এরপর হাজরা ক্রসিং-এ এসে ফের পায়ে হাঁটা শুরু করেন তিনি । হাজরা থেকে টানা গোপালনগর পর্যন্ত পদযাত্রা করেন তিনি ৷ দীর্ঘ মিছিলে তৃণমূল নেত্রীকে বারবার দেখা গিয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে যেতে । কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেরিয়ে তিনি রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে হাত নেড়েছেন, হাসিমুখে অভিবাদন গ্রহণ করেছেন । মুখ্যমন্ত্রীর এই মিছিলে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগ ছিল লক্ষণীয় । কখনও তাঁকে দেখে স্থানীয় মহিলারা উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনি দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন, আবার কোথাও বাড়ির ছাদ বা বারান্দা থেকে তৃণমূল নেত্রীর উদ্দেশে করা হয়েছে অবিরাম পুষ্পবৃষ্টি । দিনের শেষে এই হাই-ভোল্টেজ মিছিলে এসে যোগ দেন লালু প্রসাদ যাদবের পুত্র তথা বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী তেজস্বী যাদব । 2026 সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে একটি বিশেষ দৃশ্য বারবার চোখে পড়েছে । বাংলার ভোটে একাধিক ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতাকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচারের ময়দানে দেখা গিয়েছে । ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন থেকে শুরু করে, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল – সকলকেই বাংলার মাটিতে তৃণমূলের হয়ে প্রচার অভিযানে ঝড় তুলতে দেখা গিয়েছে । আর সেই তালিকার নবতম সংযোজন হলেন তেজস্বী । সর্বভারতীয় স্তরের এই নেতাদের বাংলায় এনে তৃণমূল কংগ্রেস মূলত বিরোধী ঐক্যের বার্তাই স্পষ্ট করতে চেয়েছে । তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রচারের একেবারে শেষ লগ্নে তেজস্বী যাদবকে ভবানীপুরে দেখা যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । এর আগে ভিন রাজ্যের বা জোটের যে সকল হেভিওয়েট নেতারা বাংলায় তৃণমূলের হয়ে প্রচার করেছেন, তাঁদের মূলত উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল । কিন্তু এবারই প্রথম কোনও ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাকে সরাসরি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুরের মাটিতে এসে প্রচার করতে দেখা গেল । ভবানীপুর বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্ত ঘাঁটি । সেই ভবানীপুরে প্রচারের শেষ বেলায় তেজস্বী যাদবের মতো একজন জনপ্রিয় নেতাকে নিয়ে আসা একটি বড় রাজনৈতিক চাল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা । এর মাধ্যমে শহরের হিন্দিভাষী ভোটারদের।

