রাজ্যে পালাবদলের পর নবগঠিত সরকারের নারী ও শিশুবিকাশ এবং সমাজ কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার নিজের দফতরে এসে দায়িত্বভার বুঝে নেওয়ার পর প্রথম দিনেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর দফতরের অগ্রাধিকার এবং আগামিদিনের কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। নারী সুরক্ষা, শিশু কল্যাণ এবং দুর্নীতি দমনে রাজ্যে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলা হবে বলেই বার্তা দিয়েছেন তিনি৷ অগ্নিমিত্রা পাল জানান, এই রাজ্যে এতদিন মহিলাদের ওপর যে অত্যাচার এবং বঞ্চনা হয়েছে, এবার তার সম্পূর্ণ অবসান ঘটাতে নতুন সরকার বদ্ধপরিকর। তাঁদের সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হল শিশু ও মহিলাদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। রাজ্যের মহিলারা যাতে মাথা উঁচু করে এবং সসম্মানে বাঁচতে পারেন, সেটাই তাঁর দফতরের মূল লক্ষ্য৷ বিগত সরকারের আমলে রাত আটটার পর মহিলাদের বাইরে বেরোনো নিয়ে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা আর থাকবে না বলে তিনি কড়া আশ্বাস দেন। তাঁর মতে, এখন থেকে মহিলারা নির্ভয়ে রাত আটটার পরেও বাড়ির বাইরে বেরোতে পারবেন।
আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এদিন অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, যারা এতদিন ইভটিজিং করেছে বা মহিলাদের খারাপ নজরে দেখেছে, তাদের বিরুদ্ধে এবার থেকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। অ্যাসিড আক্রমণ বা শ্লীলতাহানির মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরও জানান, থানায় গেলে পুলিশ এফআইআর নেবে না, এই সংস্কৃতি আর রাজ্যে চলবে না। প্রতিটি মহিলা থানায় মহিলাদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে এবং জিরো এফআইআর দায়ের করার ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে৷ আরজি কর বা অন্যান্য জায়গায় ঘটে যাওয়া অপরাধের মতো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার যে চেষ্টা বিগত 15 বছর ধরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চলে এসেছে, তা এবার থেকে কঠোর হাতে দমন করা হবে। মহিলাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিগত সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বদলে এবার রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি মহিলাকে মাসে তিন হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। এই টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে৷ এছাড়াও, আগামী পয়লা জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের সরকারি বাসে যাতায়াতের জন্য কোনও ভাড়া লাগবে না, তাঁরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস পরিষেবা পাবেন৷ দুর্নীতি ও পরিবেশ নষ্টকারী কাজের বিরুদ্ধেও এদিন সোচ্চার হন মন্ত্রী। নদী থেকে বালি চুরি, কয়লা চুরি থেকে শুরু করে পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে বেআইনি নির্মাণের মতো কাজের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মন্ত্রী আরও জানান, বিগত দিনে যারা এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলে, তাদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনা হবে। অপরাধীদের আড়াল করার কোনও জায়গা এই সরকারে নেই বলে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রসঙ্গেও এদিন মুখ খোলেন মন্ত্রী। তিনি রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের আশ্বস্ত করে জানান, তাঁদের সরকার কোনোরকম প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে না। বিজেপি সরকার আসার পর বিরোধী দলের কাউকে মারধর বা ভয় দেখানো হবে না৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সকলের জন্য কাজ করার বার্তা দিয়েছেন৷

