বালিগঞ্জের বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে এখনও বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেয়নি সচিবালয় । অষ্টাদশ বিধানসভা গঠন এবং প্রথম অধিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পরেও কেন তাঁকে এই স্বীকৃতি দেওয়া হল না, তা স্পষ্টভাবে জানতে এবার তথ্য জানার অধিকার আইন বা আরটিআই-এর দ্বারস্থ হলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক । তৃণমূলের অভিযোগ, গত 13 মে দলের তরফে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে উদ্দেশ্য করে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল । সেখানে 80 জন বিধায়কের সমর্থন-সহ তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম জানানো হয় । তা সত্ত্বেও তাঁকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি না-দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তৃণমূল পরিষদীয় দল । তৃণমূল সূত্রে খবর, সেই সময় স্পিকার তাঁর দফতরে উপস্থিত না-থাকায় চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল বিধানসভার সচিব সমরেন্দ্রনাথ দাসকে । কিন্তু চিঠি জমা দেওয়ার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁকে সরাসরি বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি । উল্টে স্পিকারের দফতর থেকে পাল্টা একটি চিঠিতে বিধানসভার সচিবালয় জানিয়েছে, তৃণমূল পরিষদীয় দলের যে বৈঠকে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, সেই প্রস্তাবটিতে 80 জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ পত্রটি জমা দিতে হবে । নিয়ম অনুযায়ী, 294টি আসনের বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা পেতে অন্তত 30 জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন হয় । তৃণমূলের দাবি, তাদের কাছে 80 জন বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও নানা অছিলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে । ক্ষুব্ধ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত এ ধরনের চিঠি চালাচালির নিয়ম নেই, বরং সচিবালয় থেকেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তা জানিয়ে দেওয়া হয় । কিন্তু এক্ষেত্রে তা না-হওয়ায় এবং বিধানসভায় বিরোধী দলের জন্য নির্দিষ্ট ঘরটিতে তালা ঝোলানো থাকায় তিনি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন । ঘটনাচক্রে, সোমবার তিনি বিধানসভায় এলে বিরোধী দলনেতার ঘর বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ লবিতে বসেই নিজের কাজকর্ম সারেন । বাধ্য হয়েই তিনি আরটিআই করে জানতে চেয়েছেন, 2011, 2016 এবং 2021 সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সচিবালয় ঠিক কী নিয়ম অনুসরণ করেছিল । পাশাপাশি স্পিকারকে দেওয়া ওই একই চিঠিতে শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করার পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা করার কথাও জানিয়েছে তৃণমূল ।

