সই জালিয়াতি মামলার তদন্তের সূত্রে, গত ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সোমবার সন্ধ্যায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান সিআইডি আধিকারিকরা । সূত্রের খবর, তদন্তকারীদের সামনে 8 জুন সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাঁকে আরও একটি নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে । সিআইডি’র কাছে চেয়েছিলেন ১৫ দিনের সময়সীমা । সেই সময় দিতে নারাজ সিআইডি । ১৫ দিনের পরিবর্তে দেওয়া হয়েছে 7 দিন সময় । বিধানসভার অধ্যক্ষের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে দলের বিধায়কদের সই-জাল কর অভিযোগ সংক্রান্ত এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে সিআইডি’র সদর দফতর ‘ভবানী ভবন’-এ উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । উল্লেখ্য, ওই চিঠিতে বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে সমর্থন জানানো হয়েছিল । তদন্তের সূত্রে সিআইডি তাঁকে তলব করার পর, সোমবার স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দুই সপ্তাহের সময় চেয়ে নিয়ে তিনি সিআইডি-র সামনে হাজিরা দেওয়া এড়িয়ে যাওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল । সিআইডি আধিকারিকরা চলে যাওয়ার পর অভিষেকের বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর দফতরের কর্মী অয়ন ঘোষ বলেন, “দাদা (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) উপস্থিতির নোটিশটিতে স্বাক্ষর করে সেটি গ্রহণ করেছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন ।”
তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানান, সিআইডি’র দলটি সোমবার বিকেল সাড়ে 5টা নাগাদ তৃণমূল সাংসদের বাড়িতে পৌঁছয় এবং বাড়ির চত্বরের ভিডিও রেকর্ডিং করে । ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করা হয়েছে ৷ যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক-সহ দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর । সই জালিয়াতি মামলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সিআইডি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে । তদন্তকারীদের দাবি, বিধানসভার নথিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে এবং সেই সূত্র ধরেই তদন্ত এগোচ্ছে । ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে । তদন্তকারীরা নথি, সাক্ষ্য এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখছেন । রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তলব এবং পরবর্তীতে তাঁর বাড়িতে সিআইডির উপস্থিতি রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে । আগামী দিনে সিআইডি কবে নতুন করে হাজিরার নোটিশ দেয় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তকারীদের সামনে উপস্থিত হন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক মহলের ।
