পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল কলকাতা হাইকোর্ট । বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে আপাতত কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি না-করলেও, বিরোধী দলনেতা হিসাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগের ‘বৈধতা’ নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে আদালত । বিচারপতি কৃষ্ণা রাও রাজ্য সরকার ও বিধানসভার স্পিকারকে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে হলফনামা দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছেন । ওই দিনই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে নির্বাচিত বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিধানসভার দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ও গণতান্ত্রিক প্রথাকে উপেক্ষা করে বিরোধী দলনেতা নিয়োগ করা হয়েছে । মামলাকারীর দাবি, যে রাজনৈতিক দল বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী শিবিরে রয়েছে, সেই দলের মনোনয়ন ও সিদ্ধান্তকে অগ্রাহ্য করে একটি পৃথক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিকে বিরোধী দলনেতা করা হয়েছে, যা আইন ও বিধানসভার রীতির পরিপন্থী। মামলাকারীর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা নিয়োগের ক্ষেত্রে সবসময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ১৫ মে বিরোধী দলনেতা ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎও হয়েছিল। পরে ১৯ মে বিরোধী বিধায়কদের বৈঠকে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাতে বিধায়কদের স্বাক্ষর নেওয়া হয় । সেই প্রস্তাব ২০ মে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে বিধানসভায় পাঠানো হয় । আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের যুক্তি, বিধানসভার ভিতরে কোনও গোষ্ঠী বা গ্রুপ নিজে থেকে বিরোধী দলনেতার দাবি করতে পারে না । যদি কোনও রাজনৈতিক দলের সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে অন্য কোনও দলে মিশে যান বা দলবদল করেন, তাহলে পরিস্থিতি আলাদা । কিন্তু এখানে সেই ধরনের কোনও সংযুক্তি বা মার্জার হয়নি ।

