নির্মীয়মান বহুতলগুলির জন্য বিশেষ আবেদনপত্র প্রকাশ করা হল। কলকাতা কর্পোরেশন সহ একাধিক পুরনিগম ও পুরসভার জন্যই আবেদনপত্র প্রকাশ করা হয়েছে৷ এই আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দিতে হবে নির্মীয়মান বহুতলগুলির নির্মাণকারীদের। কলকাতায় পুরনিগমের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবার বোরো অফিসে গিয়েও আবেদনপত্র পূরণ করা যাবে৷ সোমবার থেকেই এই আবেদনপত্র মিলতে শুরু করেছে বলে জানালেন কলকাতার প্রশাসক ও রাজ্যের তৈরি উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য স্মিতা পাণ্ডে। এদিন তিনি জানিয়েছেন, নির্মীয়মান বহুতলের জন্য নতুন ফর্ম প্রকাশ করেছে কলকাতা কর্পোরেশন। এছাড়াও 11 জনের বিশেষ দলের আওতায় যে পুরনিগম বা পুরসভাগুলি রয়েছে, সেগুলোও এই ফর্মের আওতায় পড়বে। নির্মীয়মান বহুতলের কর্তৃপক্ষকে এই ফর্ম ফিলাপ করে নির্দিষ্ট বোরো অফিস অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমা করতে হবে। কলকাতা কর্পোরেশনের 16টি বোরোতে 16টি অডিট টিম তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ত দফতর, কেএমডিএ, শ্রম দফতর-সহ বিভিন্ন দফতর এবং কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। কলকাতা পুলিশও রয়েছে।
ইতিমধ্যেই বোরো-র কাছে যে নির্মাণ কাজের তালিকা রয়েছে, সেটা দেখেও ফিল্ড ভিজিটে যেতে পারে অডিট টিম। এই রিপোর্ট উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে জমা করবে অডিট টিম। তার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এরপর নির্মাণ কাজের অনুমতি দেওয়া হবে। কোনও টেকনিক্যাল ইস্যু হলে উচ্চপর্যায়ের কমিটি সাহায্য করবে। উল্লেখ্য, বিভিন্ন বোরোয় ইতিমধ্যেই নির্মীয়মান বহুতলের নকশা বা অনুমোদনের জন্য কর্পোরেশনকে দেওয়া কাগজপত্র খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। আগামিকাল (মঙ্গলবার) কিংবা পরশু (বুধবার) থেকে অডিট টিম বিভিন্ন নির্মাণস্থলে ঘুরতে শুরু করবে। বহুতলগুলির ক্ষেত্রে শুধু নকশা নয়, নির্মাণ সামগ্রী, ঢালাই, নিকাশি, মাটির অবস্থা এই সমস্ত খতিয়ে দেখবে অডিট টিম। কলকাতার প্রতিটি বোরোর অডিট কমিটির মাথায় থাকছেন বিল্ডিং বিভাগের বোরো এক্সিকিউটিভ৷ থাকবেন সাফাই বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, নিকাশি বিভাগ, পিডব্লিউডি, শ্রম দফতর-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। অডিট কমিটি যদি কাগজের সঙ্গে সরেজমিনে মিলিয়ে দেখেন যে সব ঠিক আছে, তাহলে নির্মাণের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেবে৷ তখন সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারীরা পুনরায় কাজ শুরু করে দিতে পারবে। যাদের এখন সবে ফাঁকা জমিতে গার্ড ওয়াল দেওয়া বা সয়েল সেটেলমেন্ট করার মতো কাজ চলছে, তাদের কাজে কোনও বাধা থাকছে না।

