যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের বামপন্থী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে একের পর এক তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ৷ বৃহস্পতিবার রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক ও কর্মী বদলি সংক্রান্ত বিল নিয়ে আলোচনা ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন । এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানকার শিক্ষক সমিতি ‘জুটা’ ৷ এদিন বিধানসভায় ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, 2026’ পেশ হয় ৷ এই বিলের মাধ্যমে 2017 সালের বিদ্যমান আইনের 14এ নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত হতে চলেছে ৷ এর ফলে প্রশাসনিক প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবেন আচার্য ৷ আগের আইনে কলেজের শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মী ও গ্রন্থাগারিকদের বদলির স্পষ্ট রূপরেখা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ ছিল না ৷ সেই আইনি শূন্যতা দূর করতে এই নতুন ধারার সংযোজন বলে সরকার পক্ষের দাবি ৷ এদিকে প্রস্তাবিত বদলি নীতি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে ৷ এই আবহে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুঁশিয়ারির সুরে জানান, জুটার কোন সদস্য অতীতে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছেন, তার যাবতীয় খতিয়ান প্রশাসনের নথিতে মজুত রয়েছে ৷ তাঁর বক্তব্য, তথাকথিত বুদ্ধিজীবীদের অভিজ্ঞতাকে রাজ্যের প্রান্তিক শিক্ষাকেন্দ্রে কাজে লাগানোই সরকারের লক্ষ্য ৷ বাম মনোভাবাপন্ন শিক্ষকদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাদের, তাদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব – যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে ৷” তিনি দাবি করেন, এই বিলের মূল গুরুত্ব শুরুতে বিরোধী বা শিক্ষক সংগঠনগুলি অনুধাবন করতে পারেনি ৷ এখন সরকারের কঠোর পদক্ষেপের গতিপ্রকৃতি টের পেয়েই চারদিকে ‘চিড়বিড়’ শুরু হয়েছে ৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক স্লোগান ও সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও এদিন কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ক্যাম্পাসের অন্দরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে ৷ কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষাণজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না ৷ সনাতন ধর্মকে যারা কেবল কালচারাল মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয় ৷” অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা রুখতে আইন নিজস্ব পথেই চলবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি ৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি সামলাতে বিধায়কদের লাঠি হাতে নামার প্রয়োজন নেই, পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া রয়েছে ৷ একই সঙ্গে সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলতে নারাজ শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রশাসন যে কোনও আপস করবে না, তা স্পষ্ট করে দেন তিনি ৷ ক্ষুব্ধ অধ্যাপকদের উদ্দেশে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যাঁদের এই সরকারি চাকরিতে এত অসুবিধা হচ্ছে, তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিন ৷ কাঁধে ঝোলা ব্যাগ ঝুলিয়ে পাকাপাকি হোলটাইমার হয়ে যান এবং নিউ মার্কেটে কৌটো হাতে চাঁদা তুলতে নেমে পড়ুন ৷”

