পুজোর আর ক’টা দিনই বাকি। মণ্ডপ তৈরির কাজ শেষের দিকে। শিল্পীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে। এর মধ্যেই রবিবার রাতে হরিদেবপুরের অজেয় সংহতি ক্লাবে চড়াও হয়ে সদস্যদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থায়ীয় বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েও তাণ্ডব চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। হুমকির মুখে ৬৬ বছরের পুরোনো দুর্গাপুজো আদৌ হবে কি না – তা নিয়ে সংশয়ে ক্লাব সদস্যরাই। হামলার নেপথ্যে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ ১২–১৫ জন সশস্ত্র যুবক ক্লাবে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। দু’টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে প্রমাণ লোপাটে তার রেকর্ডার বক্স নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, রবিবার রাতে খাওয়া–দাওয়ার আয়োজন হয়েছিল। তখনই হামলা হয়। ক্লাবের সদস্য অরিজিৎ নন্দীকে বন্দুকের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। অরিজিৎ মমতা–তৃণমূল নেতা বলেই পরিচিত। তাই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিজেপির যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। সিসি ক্যামেরা ও ডিভিআর খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে ব্যক্তিগত আক্রোশও কারণ কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, অরিজিতের বাড়ির নীচে স্টেশনারি দোকানের ব্যবসা। অভিযোগ, তাঁকে দেখা করতে বলেছিলেন বিজেপি–রই কয়েক জন। তিনি দেখা করেননি বলেই ওই হামলা – দাবি ক্লাব সদস্যদের। যদিও এই গন্ডগোলের প্রভাব পুজো প্রস্তুতিতে গিয়ে পড়েছে। অজেয় সংহতির সাধারণ সম্পাদক পীযূষ হালদার বলছেন, ‘পুজো কী ভাবে করব, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। যে ভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমরা আতঙ্কিত।’ পুজো সংগঠক প্রীতম সাহার অভিযোগ, ‘খবর দেওয়া হলেও, পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেনি।’ সদস্যদের দাবি, হামলার ঘটনায় শিল্পী থেকে শুরু করে মণ্ডপে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা সকলেই আতঙ্কিত। প্রীতমের বক্তব্য, ‘পুলিশ–প্রশাসনের তরফে নিরাপত্তা না পেলে, পুজোর ভবিষ্যৎ কী হবে জানা নেই।’ এই ঘটনায় ১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার মমতা–তৃণমূলের রত্না শূর দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ এই ঘটনায় জড়িত, নাকি ইচ্ছাকৃত ভাবে দলের নাম জড়ানো হচ্ছে, তা বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারকে ফোন করা হলে তিনি অবশ্য ধরেননি। ফোনে পাঠানো বার্তারও জবাব দেননি।

