তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যের বিচারব্যবস্থার একাংশের সমালোচনা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বৃহস্পতিবার মেয়ো রোডে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, বিচারব্যবস্থা থেকে কেন্দ্রীয় এজেন্সি সবাই তৃণমূল বিরোধী ৷ তিনি এদিন বলেন, “দুঃখজনকভাবে রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে এবং তৃণমূল কংগ্রেসকে শিক্ষা দিতে গিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারব্যবস্থার একাংশ বাংলা ছাত্র-যুব সমাজের জীবনে অন্ধকার নামিয়ে আনার চেষ্টা করেছিল । কিন্তু আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ পেয়েছি । শীর্ষ আদালতের অনুমতি পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে সরকার প্রক্রিয়া চালু করেছে ৷” তিনি আরও বলেন, “বিচারব্যবস্থা থেকে শুরু করে বিজেপি, সংবাদমাধ্যম, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি, সিবিআই, নির্বাচন কমিশন সব তৃণমূলের বিরুদ্ধে ৷ কিন্তু ১০ কোটি বঙ্গবাসী তৃণমূলের পক্ষে ৷ এসো লড়াই করো, দেখি কত ক্ষমতা ৷ একদিকে ১০ কোটি বঙ্গবাসী, আর অন্যদিকে দিল্লির জমিদারদের নেতৃত্বে ইডি সিবিআই থেকে সংবাদমাধ্যম ৷” পাশাপাশি এদিন অপরাজিতা বিল কেন পাশ হচ্ছে না সেই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যের সরকার মন্ত্রিসভা ও বিধানসভায় পাশ করিয়ে অপরাজিতা বিল সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যপালের কাছে পাঠিয়েছিল ৷ যাতে এরকম নরকীয় ঘটনার কোনও পুনরাবৃত্তি বাংলা-সহ দেশের কোনও মাটিতে না ঘটে ৷ আজ একবছর হয়ে গিয়েছে সেই অপরাজিতা বিল রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন ৷ কিন্তু এখনও সেই বিলে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পাওয়া যায়নি ৷” এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে একযোগে বিজেপি থেকে সিপিএমকে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, “যারা সেদিন রাস্তায় নেমে আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল তাদের উদ্দেশ্য ছিল, শুধু দোষী শাস্তি পাক তা নয়, তাদের উদ্দেশ্য ছিল রাজ্যের মানুষের স্বার্থে যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ২০১১ থেকে করেছে, সেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে ভেঙে ফেলা ৷ না-হলে আজকে সেই সিপিএম, কংগ্রেস আর বিজেপি বন্ধুদের আওয়াজ অপরাজিতা বিল নিয়ে উঠছে না কেন ? তারা কেন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে মিটিং মিছিল করছে না যে, এই বিল অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে পাশ করতে হবে ৷” 2026 নির্বাচন নিয়ে বিজেপিকে এদিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, “আগেরবারের থেকে 2026 নির্বাচনে তৃণমূলের আরও আসন বাড়বে ৷ কুৎসা যত বেড়েছে, জন সমর্থন তত বেড়েছে ৷ বিজেপির ক্ষমতা থাকলে 50 আসন পার করে দেখাক ৷ আমরা ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও-এর রাজনীতি করি না ৷ আমরা সাজিয়ে দাও গুছিয়ে দাওয়ের রাজনীতি করি ৷” এদিন এসআইআর নিয়েও বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, “বিজেপির সরকার এসআইআর করে আমাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে ৷ আগে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের সরকার বেছে নিত ৷ আর বর্তমান কেন্দ্রের সরকার নিজেদের শাসনের স্থায়িত্ব বাড়াতে দেশজুড়ে ভোটার বেছে নিচ্ছে ৷ এর বিরুদ্ধে বাংলা লড়বে ৷”

