ঝাড়গ্রামের লালগড় তথা জঙ্গলমহল এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর চ্যলেঞ্জ, আপনি আজকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ে সভা করেছেন, আপনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আপনি যদি সত্যি দক্ষ মন্ত্রী হন বা দক্ষ নেতা হন তা হলে হিম্মত থাকলে এক মাসের মধ্যে একইভাবে মণিপুরে সভা করে দেখান। মঙ্গলবার ঝাড়গ্রাম জেলার লালগড়ের সজীব সংঘ ফুটবল মাঠে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মঙ্গল সোরেনের সমর্থনে জনসভা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী মঙ্গল সোরেন, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি সুমন শাহ-সহ দলের একাধিক নেতৃত্ব। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সভায় উপস্থিত হওয়ায় সকলকে কৃতজ্ঞতা ও প্রণাম জানান অভিষেক। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, রবিবার এই মাঠে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভা হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের বেশি চলায় তাঁর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে সেই সভা বাতিল করতে হয়। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, আজ পর্যন্ত আপনাকে কোথাও ঝালমুড়ি খেতে দেখিনি! এখন ঝাড়গ্রামের রাস্তায় দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেতে পারছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের জন্য। যে রাস্তা দিয়ে গিয়েছেন, সেই রাস্তা আমাদের সরকার তৈরি করেছে। বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বিজেপির বশ্যতা স্বীকার করেননি বলেই লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে জেল খাটানো হয়েছে। তিনি আদিবাসী সমাজের মানুষ। তাঁর অপমান মানে আদিবাসী সমাজের অপমান। জঙ্গলমহলের অতীত পরিস্থিতি প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, ২০১১ সালের আগে লালগড়-সহ গোটা জঙ্গলমহলে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল। নেতাই গ্রামের হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই ঘটনা আজও মানুষ ভোলেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরেছে। তিনি দাবি করেন, লালগড়ে গত কয়েক বছরে ডিগ্রি কলেজ, নার্সিং ট্রেনিং কলেজ, আইটিআই, মডেল স্কুল, পলিটেকনিক, সেতু ও রাস্তার উন্নয়ন হয়েছে। ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেন, তা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেন’ বলে বলেন তিনি। বিজেপিকে ‘মিথ্যাবাদী’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, প্রতি বছর ২ কোটি চাকরি, প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কেউ টাকা পায়নি, কারও চাকরিও হয়নি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন। এখন সাধারণ মহিলারা ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি-জনজাতির মহিলারা আরও বেশি ভাতা পাচ্ছেন। তৃণমূল যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। এদিন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে বিজেপিকে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বলেন, বিজেপির টাকা নেবেন, কিন্তু ভোট দেবেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অভিষেক বলেন, আমি আপনাদের পাশে আছি। ডাকলেই আমাকে পাবেন। সভা থেকে আগামী ২৩ এপ্রিল ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সোরেনকে জোড়াফুল প্রতীকে ভোট দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। একই সঙ্গে ধর্ম নয়, উন্নয়নের রাজনীতি করার ডাক দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।