আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতার বিচারের দাবিতে দলীয় পতাকা ছাড়াই নবান্ন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছিল ৷ গত শনিবার সেই আন্দোলনে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে ৷ পাশাপাশি, নবান্ন-কালীঘাট অভিযানের দিন পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এবার আরও একজনকে গ্রেফতার করল লালবাজার। ধৃতের নাম মানস চন্দ্র সাহা । বয়স ৫৫ বছর ৷ এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার বলেন, “এই নিয়ে মোট দু’জন গ্রেফতার হল।” নবান্ন-কালীঘাট অভিযানের দিন পুলিশের উপর আক্রমণের ঘটনায় এর আগে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলের এক বাসিন্দা চন্দ গুপ্তকে গ্রেফতার করেছিল লালবাজার। চন্দনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ঘটনার দিন তিনি কলকাতা পুলিশের ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতার দেহরক্ষীকে রাস্তায় ফেলে মেরেছিলেন। সেই ঘটনায় তাঁকে গ্রেফতার করেন লালবাজারের গোয়েন্দারা। কালীঘাট-নবান্ন অভিযানে ঝামেলা পাকানো এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় একবার গ্রেফতারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দু’জন। এই ঘটনার পর কলকাতা পুলিশের যুগ্ম নগরপাল সদর মিরাজ খালেদ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আমরা প্রত্যেককে চিহ্নিত করছি ৷ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় নিউ মার্কেট এবং হেয়ার স্ট্রিট দুই থানা মিলিয়ে মোট ৬টি এফআইআর (FIR) রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ। এছাড়াও ঘটনার দিন পুলিশের উপর আক্রমণ এবং মারধরের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৬ জনকে নোটিশ পাঠিয়েছে লালবাজার। তার মধ্যে রয়েছেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ-সহ অন্যরা।” কলকাতা, হাওড়া পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের তরফ থেকে এই অভিযান শুরু হওয়ার আগে মোট দু’টি জায়গা ঠিক করে দেওয়া হয়। তার মধ্যে একটি হাওড়ার সাঁতরাগাছি এবং কলকাতার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ। সেখান থেকেই আন্দোলনকারীদের একাংশ পার্ক স্ট্রিটের দিকে চলে আসে। উল্লেখ্য, নবান্ন অভিযানে অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় গত পরশু রানিগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয় বিজেপি যুব মোর্চার আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক অভীক মণ্ডলকে। গ্রেফতার করা হয় তাঁর সঙ্গী বিজেপি কর্মী ঈশ্বর গোপকেও ৷ তাঁরা গ্রেফতার হতেই ধুন্ধুমার বাঁধে রানিগঞ্জ আমরাসোঁতা ফাঁড়িতে ৷

