বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বাংলায় প্রথমবার সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের পর আজ, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে নিজের প্রথম হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে এই ব্যস্ত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফর শুরু করার ঠিক আগেই একবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সমস্ত কাজ শুরুর আগে তিনি (Suvendu Meets Mithun Chakraborty) সোজা পৌঁছে গেলেন টলিউডের মেগাস্টার তথা বিজেপির তারকা প্রচারক মিঠুন চক্রবর্তীর নিউটাউনের বাসভবনে। শনিবার সকালে মহাগুরুর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জয়ের ‘নেপথ্য কারিগর’ মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণের ভোট এবং মানুষের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছি, দলীয় সিদ্ধান্তে আজ মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসেছি ঠিকই; কিন্তু এই দীর্ঘ ও কঠিন রাজনৈতিক লড়াইয়ের নেপথ্যে যাঁদের অবদান সবচেয়ে বেশি, তাঁদের মধ্যে মিঠুনদা অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) বিগত এক বছর ধরে রাজ্যের দিকে দিকে ঘুরে অসংখ্য কর্মীসভা করেছেন। দলের একেবারে নীচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বিশেষ করে নির্বাচনের শেষ তিন-চার মাসে তাঁর প্রচার সভার কোনো গুনতি ছিল না। আজ তিনি মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলেও, এই সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারিগর আসলে ‘মিঠুনদা’। মুখ্যমন্ত্রীর মুখে এমন অকুণ্ঠ প্রশংসা শুনে স্বভাবতই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন রুপোলি পর্দার ‘মহাগুরু’। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শুভেন্দু অধিকারীকে স্নেহের আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরেন তিনি। এরপর শুভেন্দুর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে মিঠুন চক্রবর্তী দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে বলেন, “এর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী আর হবে না। পশ্চিমবঙ্গে এর থেকে ভালো মুখ্যমন্ত্রী পাবে না। শপথ নেওয়ার পর মুহূর্ত থেকে ইনি কাজ শুরু করেছেন। আগামীদিনে আর কী কী হয়, তা সকলে দেখবেন।” এই সৌজন্য সাক্ষাতের পরেই মুখ্যমন্ত্রী রওনা দেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার উদ্দেশে। সেখানে আজ ডায়মন্ড হারবার, সুন্দরবন ও বারুইপুর পুলিশ জেলার শীর্ষ আধিকারিক এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে মেগা পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন তিনি। এলাকার বিধায়কদের নিয়েও আরও একদফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। চলমান উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডায়মন্ড হারবার সফর শেষ করে আজই ফলতায় ভোটের প্রচারে কর্মীসভায় যোগ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সফরের আগের এই ‘শুভেন্দু-মিঠুন’ সাক্ষাৎ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।