নির্বাচনী প্রচারে উস্কানি মূলক মন্তব্য করার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করল বিধাননগর কমিশনারেট ৷ এর আগে কোনও মামলায় তৃণমূলের এই সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়নি ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় রাজীব সরকার নামে এক সমাজকর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে রাজ্য পুলিশ। ভোটের প্রচারের সময় করা অভিষেকের কয়েকটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই এফআইআর দায়ের হয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যটিকেও নিজের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করেছেন রাজীব ৷

অভিযোগে দাবি করা হয়, নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক জনসভা থেকে অভিষেক এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন যা উস্কানিমূলক ৷ শুধু তাই নয় সমাজের বিভিন্ন অংশের মধ্যে বিভাজনও তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন সভা ও প্রচারের ভিডিও লিঙ্ক এবং বক্তব্যের অংশ তুলে ধরে পুলিশের কাছে তদন্তের আবেদন জানানো হয়। সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার পর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একাধিক ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পুলিশের তরফে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার মোট পাঁচটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে একাধিক গুরুতর ধারাও রয়েছে।

কোন কোন ধারায় অভিযোগ ?

  • 192 ধারায় অশান্তির উদ্দেশ্যে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে ৷ এই ধারা জামিনযোগ্য।
  • 196 ধারায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগও এনেছে বিধাননগর পুলিশ ৷ এই ধারাটি জামিন যোগ্য নয় ৷
  • 351 (2) ধারায় ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে ৷ এই ধারাটিও জামিনের অযোগ্য ৷
  • 353(1)(সি) ধারায় মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগও যুক্ত করা হয়েছে। শুধু ভারতীয় ন্যায় সংহিতাই নয়, 1951 সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের 123(2) এবং 125 ধারাও প্রয়োগ করা হয়েছে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচনী প্রচারে রাজনৈতিক ভাষণের নামে সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছিল বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই অভিযোগ সামনে আনা হয়েছে এবং এর পিছনে বিরোধীদের চক্রান্ত রয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।