এক থেকে দেড় বছর কাটতে না কাটতেই উপাচার্যের বদল হয় গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে পবিত্র চট্টোপাধ্যায়কে অপসারণ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ৷ গত বছরের এপ্রিলে রজতকিশোর দে’কে সরিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রির প্রফেসর পবিত্রবাবুকে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন এই রাজ্যপালই ৷ উপাচার্য পদে পবিত্রবাবু রাজ্য সরকারেরও পছন্দের তালিকায় ছিলেন ৷ তাই তাঁর নিয়োগ নিয়ে কোনও সমস্যা দেখা দেয়নি ৷ শোনা যাচ্ছে, এবার গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসাবে যোগ দিতে চলেছেন আশিস ভট্টাচার্য ৷ যদিও নতুন উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও নির্দেশিকা আসেনি ৷ তবে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এই ইস্যুতে আরও একবার কি রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত আসন্ন ? কিন্তু এক বছর চার মাসের মধ্যে কেন পবিত্রবাবুর অপসারণ ? বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরমহল থেকে জানা যাচ্ছে, পবিত্রবাবু উপাচার্য হিসাবে তাঁর দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপালের নির্দেশ ছিল, 25 অগস্ট গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান করতে হবে ৷ কিন্তু পবিত্রবাবু তা করতে পারেননি ৷ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল বলে শোনা যাচ্ছে ৷ যদিও এই নিয়ে পবিত্রবাবুর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি ৷ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি তিনি ৷ ফোনও ধরেননি ৷ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস বলেছেন, “রাজ্যপালের দফতর থেকে 25 অগস্ট সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ৷ কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা ন’বছর সমাবর্তন উৎসব হয়নি ৷ এই সময়কালে কয়েক লাখ ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন ৷ সমাবর্তনে তাঁদের মেডেল, সার্টিফিকেট প্রভৃতি দেওয়ার বিষয় থাকে ৷ কিছু পদ্ধতি মেনেই সমাবর্তন করতে হয় ৷ আমরা সেই কাজ করছিলাম ৷ আমরা আগেই জানিয়েছিলাম, এত কম সময়ের মধ্যে সমাবর্তনের আয়োজন করা সম্ভব হবে না ৷ তাই অতিরিক্ত সময় চেয়ে রাজ্যপালের দফতরে চিঠি পাঠিয়েছিলাম ৷ সেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল গত 24 জুলাই ৷ কিন্তু ওই চিঠির প্রক্ষিতে আমরা কোনও উত্তর পাইনি ৷ আর হঠাৎ করে কারও বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির কথা বলা যায় না ৷ কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটি গড়ে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে রাজ্য সরকার ৷ কর্তব্যে গাফিলতি কিংবা দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয় ৷” তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অপসারণের নির্দেশের বিষয়টি মেনে নিয়েছেন বিশ্বজিৎবাবু ৷ তিনি বলেন, “গতকাল রাতে উপাচার্যের কাছে এই বিষয়ে একটি ই-মেইল আসে ৷ তিনি আজ সকালে মেইলটি আমাকে ফরোয়ার্ড করেন ৷ একইসঙ্গে জানিয়ে দেন, এখন থেকে তাঁর কাছে যেন কোনও ফাইল না পাঠানো হয় ৷ কিন্তু আমি মনে করি, তিনি এখনও আমাদের উপাচার্য ৷ তাঁর কাছে জানতে চাই, এখন আমার কী করণীয় ৷ তিনি আমাকে উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন ৷ আমি উচ্চশিক্ষা দফতরে বিষয়টি জানিয়েছি ৷ তাঁরা আমাকে অপেক্ষা করতে বলেছেন ৷ কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত কিছু উপাচার্য কেন্দ্রিক পরিচালিত হয় ৷ উপাচার্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেন ৷ রেজিস্ট্রার সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করেন ৷ এখন আমি যদি সকালে শুনি, উপাচার্য তাঁকে ফাইল পাঠাতে বারণ করছেন তাহলে আমাকে দ্বিতীয় অপশনে যেতে হবে ৷ আমরা সেটাই করেছি ৷ এমন ঘটনা আগেও ঘটেছিল ৷ রজতকিশোর দে’র সময় ৷ তখন সরকারের তরফে অপসারণের পরেও রজতবাবুকে কিছুদিন কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছিল ৷ তিনি সেটা করেছিলেন ৷”

