ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট না-দিলে দুর্গা পুজোর অনুদান বন্ধের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ অর্থাৎ যেসব পুজো কমিটি গত বছরের খরচের হিসেব দেয়নি, তারা এবছর রাজ্য সরকারের দেওয়া দুর্গা পুজোর অনুদান পাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ আদালতের ৷ গতবছর রাজ্যের যে সব পুজো কমিটি অনুদানের টাকা খরচ করার হিসেব এখনও দিতে পারেনি, তাদের অনুদান দেওয়ার উপর মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল কলকাতা হাইকোর্ট । পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশ, চলতি বছরে বিজয়া দশমীর একমাস পরে সমস্ত ক্লাবকে তাদের অনুদানের টাকা খরচের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের সিপির কাছে । দুর্গাপুজার ছুটির একমাস পর এই মামলার ফের শুনানি হবে । এদিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, “গত বছর মোট 41,795টি ক্লাবকে চেক দেওয়া হয়েছিল । তাদের মধ্যে মাত্র তিনটি ক্লাব ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেয়নি । ওই ক্লাবগুলো শিলিগুড়ি কমিশনারেটের ।” এই শুনে বিচারপতি সুজয় পাল বলেন, “আমরা ডেটার মধ্যে ঢুকতে চাইছি না । আমাদের বক্তব্য, যারা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেয়নি, তাদের টাকা দেবেন না ।” এ প্রসঙ্গে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “আদালতের নির্দেশ ছিল, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিতে হবে ।” দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি সুজয় পাল এদিন নির্দেশে জানান, “২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব নির্দেশ দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে আগের বছরের টাকা খরচের ইউটিলাইজ সার্টিফিকেট জমা দিলে তবেই তাদের অনুদান মঞ্জুর করতে হবে । সেই নির্দেশই রাজ্যকে চলতি বছরে মেনে চলতে হবে ।” এ বছরের অনুদানের খরচের হিসেব জমা দেওয়ার বিষয়েও সময় নির্ধারিত করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট ৷ বিচারপতি বলেন, চলতি বছরে বিজয়া দশমীর একমাস পরে সমস্ত ক্লাবকে তাদের অনুদানের টাকা খরচের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে । সেই সার্টিফিকেট দিতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশের সিপিকে ৷ দুর্গাপুজোর ছুটির একমাস পর এই মামলার ফের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন বিচারপতি । উল্লেখ্য, সৌরভ দত্ত নামে এক ব্যক্তি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টে ৷ মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের কাছে ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোর অনুদান হিসাবে দেওয়া টাকার কোনও হিসেব নেই ৷ কোনও হিসেব দিচ্ছে না ক্লাবগুলি ৷ অথচ বছর-বছর অনুদানের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে ৷