যে সমস্ত পুজো কমিটি ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ অর্থাৎ, অনুদানের টাকা কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, তার হিসাব দেয়নি তাদের টাকা দেওয়া বন্ধ করা হোক ৷ সোমবার দুর্গাপুজোর অনুদান সংক্রান্ত মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ কলকাতা হাইকোর্টের ৷ পাশাপাশি, কতগুলি পুজো কমিটি বিগত বছরের খরচের হিসাব দেয়নি, হলফনামা দিয়ে তা জানাতে বলা হয়েছে রাজ্য সরকারকে ৷ সেই মতো কতগুলি ক্লাব বিগত বছরে টাকার খরচের হিসাব দেয়নি, তাদের সংখ্যা কত এবং অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের কী যুক্তি, সেই সবও হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে ৷ এর জন্য বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চের কাছে সময় চেয়ে নেন অ্যাডভোকেট জেনারেল ৷ আগামী বৃহস্পতিবার ডিভিশন বেঞ্চে পরবর্তী শুনানি হবে ৷ উল্লেখ্য, সৌরভ দত্ত নামে এক ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন ৷ সেখানে মামলাকারীর বক্তব্য ছিল, কলকাতা হাইকোর্ট একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের কাছে ক্লাবগুলিকে দুর্গাপুজোর অনুদান হিসাবে দেওয়া টাকার কোনও হিসেব নেই ৷ এমনকি কোনও হিসাব দেওয়া হচ্ছে না ৷ অথচ বছর-বছর অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷ এদিন শুনানিতে মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য এবং নন্দিনী মুখোপাধ্যায় বলেন, “১০ অক্টোবর ২০১৮ সালে প্রথম কলকাতা হাইকোর্ট নির্দশ দেয়, যেখানে বলা হয় ‘কমিউনিটি পুলিশিং’-এর জন্য টাকা দেওয়া হয়েছে ৷ সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দেয় পুলিশের মাধ্যমে এই টাকা দিতে হবে ৷ তার হিসাব নিতে হবে ক্লাবগুলির থেকে ৷” এ নিয়ে তাঁরা আদালতের আগের নির্দেশ সংক্রান্ত কয়েকটি পয়েন্ট তুলে ধরেন ৷ বলা হয় –
- ১৬ অক্টোবর ২০২০ সালে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ দিতে হবে ৷
- সেফ ড্রাইভ সেভ লাইভ, ভলান্টিয়ারদের ট্রেনিং, পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সহজ সম্পর্ক তৈরি করার মতো কাজে এই টাকা খরচ করার নির্দেশ দেওয়া হয় ৷
- করোনা মহামারির সময় বলা হয় মাস্ক, স্যানিটাইজার দেওয়ার জন্য টাকা খরচের কথা ৷ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় লক্ষ্মীপুজোর পরেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিয়ে জানাতে হবে টাকার খরচের হিসেব ৷
এ নিয়ে পাল্টা রাজ্যের এজি কিশোর দত্ত বলেন, “প্রত্যেক বছর পুজোর আগে এই ধরনের মামলা করা হয় ৷ পুজোর ছুটির পর মামলাটি রাখা হোক ৷ রাজ্য হলফনামা দিলে এই সমস্ত বক্তব্য খারিজ হয়ে যাবে ৷” তবে, অ্যাডভোকেট জেনারেলের বক্তব্য খারিজ করে বিচারপতি সুজয় পাল বলেন, “না-না, পুজোর পরে মামলার শুনানি করলে, মামলার উদ্দেশ্য তো ব্যর্থ হবে ! আপনি হলফনামা দিন ৷ তারপর শুনানি হোক ৷ তবে, যে সমস্ত পুজো কমিটি ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেয়নি, তাঁদের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিন ৷” যার জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, “আমরা সমস্ত নথি দেখে এ বিষয়ে আদালতকে জানাতে পারব ৷” এরপরেই ২৭ অগস্ট দুর্গাপুজোর অনুদান সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে ডিভিশন বেঞ্চ ৷

