বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পাঁচ জন পদস্থ পুলিশ আধিকারিককে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ শুক্রবার এই মর্মে রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়া, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের একাধিক অভিযোগ উঠেছিল। সেই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার পরই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (Addl. SP) সন্দীপ গরাই (IPS), এসডিপিও (SDPO) সজল মণ্ডল, ডায়মন্ড হারবার থানার আইসি মৌসম চক্রবর্তী, ফলতা থানার আইসি অজয় বাগ এবং উস্থি থানার ওসি শুভেচ্ছা বাগ। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, এই পাঁচ জন আধিকারিককে অবিলম্বে তাঁদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করার কথাও জানানো হয়েছে। এছাড়াও, ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ সুপার ঈশানী পালকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁর অধীনে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের আচরণ ও কাজের উপর যথাযথ নজরদারি রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সতর্কতা জারি করেছে কমিশন। কমিশনের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব পালনে কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কমিশনের নির্দেশে আরও বলা হয়েছে, আজ সকাল 11টার মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেয়েন্স রিপোর্ট (Compliance Report) জমা দিতে হবে প্রশাসনকে। এই রিপোর্টে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি কতদূর এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ থাকতে হবে। নির্বাচন চলাকালীন এই ধরনের কড়া পদক্ষেপকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে ভোট প্রক্রিয়ার উপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল, ফলে এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। সবমিলিয়ে, ডায়মন্ড হারবারে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া পদক্ষেপ স্পষ্টবার্তা দিল, ভোটের সময়ে কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব বা দায়িত্বে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।