রাজ্যে মদের ব্যবসায় একাধিক অনিয়মের কথা ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। তবে এবার এই বিষয় আরও বড় একটি আর্থিক তছরুপের খবর প্রকাশ্যে এলো। রাজ্যে মদের দোকানিদের থেকে ‘beer carrying cost’ খাতে নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেওয়া হয়, যার বিলে কোনও উল্লেখ থাকে না। আর এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে বলেই বিস্ফোরক দাবি করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল লিকার অ্যাসোসিয়েশন। মদের ব্যবসা নিয়ে একাধিক আর্থিক তছরুপের খবর প্রকাশ্যে আসার পরই এবার মুখ খুলল ওয়েস্ট বেঙ্গল লিকার অ্যাসোসিয়েশন। অ্যাসোসিয়াশের দাবি যে, এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাঁদের সমস্যার কথা জানালেও তাঁদের কথায় কোনরকম গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁদের বিভিন্ন ভাবে ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবার রাজ্যে পালা বদলের পর তারা কিছুটা সাহস ও ভরসায় ভর করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখই খোলেননি বরং তারা তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে অর্থ দফতরের অ্যাডিশনাল চিফ সেক্রেটারি এবং রাজ্যের এক্সাইজ কমিশনারকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন। রাজ্য সরকারের বেভারেজ কর্পোরেশন বেভকো (Bevco)। এখানে বলে রাখা ভালো যে বেভকো (Bevco) দেশের অন্যান্য রাজ্যে শুরু হলেও সেগুলি মুখ থুবড়ে পড়ে। তাই হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি রাজ্যেই এখন বেভকো (Bevco) রয়েছে। সংগঠনের সেক্রেটারি বিজন পত্র ইটিভি ভারতকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ডিস্ট্রিবিউটর দের থেকে মদের দোকানদাররা অর্ডারের মাধ্যমে যেই মাল নিতেন সেই মাল দোকানির দোকান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার দ্বায়িত্ব ছিল ডিস্ট্রিবিউটরদেরই। বেভকো (Bevco) গঠন হওয়ার পর তারা যে মাল ডিস্ট্রিবিউটরদের দিতেন সেই মাল কীভাবে তারা বিতরণ করতে সেই বিষয় স্পষ্ট করে বেভকো (Bevco) র গেজেটে উল্লেখ করা রয়েছে। সেই গেজেট নোটিফিকেশন কোথাও বলা হয়নি যে লাইসেনসি দের থেকে জন্য রকম carrying বাবদ টাকা নেওয়া হবে। বরঞ্চ সেখানে খুব স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে যে মালের অর্ডার দেওয়ার পরে বেভকো (Bevco)র দায়িত্ব সেই মাল দোকানে দোকানে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু 2023 সাল থেকেই দেখা গেল বিয়ারের ক্যারিং কস্ট হিসাবে ওনারা একটা টাকার অংক দোকানীদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিলেন। প্রতি ক্রেটের দশ টাকা করে ক্যারিংচার্জ দিতে হবে। ভীষণ পাত্র জানান যে এই বিষয় নিয়ে যখন জিজ্ঞেস করায় তাদের জানানো হয় যে এই টাকা না দিলে ডিস্ট্রিবিউটরদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। অথচ সেই টাকার কোনও লিখিত অর্ডার লিসেন্সি দের কখনও দেওয়া হয়নি। এবং এই টাকা বিলে দেখানো হতো না। এর ফলে ইনকাম ট্যাক্সের থেকে লাইসেন্স এদের একাধিক প্রশ্ন করা হয় যে তারা যে এই ক্যারিং কস্ট হিসাবে টাকাটা দিচ্ছে সেটা তারা কেন দিচ্ছে কারণ বেভকো (Bevco) নির্দেশিকা এত এমন কোন টাকা দেওয়া হবে বলে বলা নেই অর্থাৎ যে আর্থিক স্ক্যাম টা চলছে তাতে লাইসেন্সও জড়িত রয়েছে। তিনি আরও জানান যে বিয়ারের ডিস্ট্রিবিউটার এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং একমাত্র এই রাজ্যেই বিয়ার ক্যারিং কোস্ট বাবদ টাকা নেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে দোকানিরা তীব্র আপত্তি জানালে ডিস্ট্রিবিউটররা কিছুটা নড়েচড়ে বসে। এই পাহাড় প্রমাণ অংকের টাকা কার কাছে যেতো সেটা তারা জানতেন না। তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছন যে ভাবে তাঁদের দিনের পর দিন শোষণ করা হয়েছে যার ফলে ব্যবসা চালিয়ে যেতে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

