ডাক্তার শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল ৷ সেই নির্দেশ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই নির্দেশ দিয়েছেন ৷ গত ৪ জুলাই শান্তনু সেনের রেজিস্ট্রেশন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিল ৷ সেই নির্দেশ খারিজের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন শান্তনু সেন ৷ সোমবার সেই আবেদনের শুনানি হয় বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে ৷ সেই শুনানিতেই মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্দেশ খারিজ করে দেন বিচারপতি ৷ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল কাউন্সিল শান্তনু সেনের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ করেছে, তার মধ্যে কোনও যুক্তি খুঁজে পাননি বিচারপতি ৷ তাই তিনি মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছেন ৷ পাশাপাশি নির্দেশ দিয়েছেন যে মেডিক্যাল কাউন্সিল মনে করলে শান্তনু সেনকে ফের চিঠি দিয়ে ডাকতে পারবে ৷ সেখানে শান্তনুর বক্তব্য শুনতে পারবে । এমনকী চাইলে মেডিক্যাল কাউন্সিল নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের এই চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে । একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ শান্তনু সেন তাঁর লেটারহেডে যে এফআরসিপি ডিগ্রির উল্লেখ করতেন, তা আপাতত লিখতে পারবেন না ৷ এই ডিগ্রি নিয়েও মেডিক্যাল কাউন্সিলকে প্রশ্ন করেছে আদালত ৷ বিচারপতির প্রশ্ন, “২০১৯ সালে ডিগ্রি পাওয়ার পর তিনি (শান্তনু) ব্যবহার করছেন । ২০২৫ এসে কাউন্সিলের মনে হল তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে ?” পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের দাবি, দিনের পর দিন নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার করতেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন ৷ রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলকে না জানিয়ে তৃণমূল নেতা ওই ডিগ্রি ব্যবহার করছিলেন ৷ সেই কারণে তাঁর রেজিস্ট্রেশন দু’বছরের জন্য বাতিল করে দেয় মেডিক্যাল কাউন্সিল ৷ তারা জানায়, এখন থেকে আগামী দু’বছর তিনি তাঁর নামের পাশে ডাক্তার কথাটি লিখতে পারবেন না ৷ তৃণমূলের এই চিকিৎসক নেতার দাবি, এমবিবিএস ও ডিএমআরডি, দু’টি ডিগ্রি দিয়ে আমি কনসালটেন্ট রেডিয়োলজিস্ট হিসেবে প্র্যাকটিস করেন ৷ ২০১৯ সালে গ্লাসগো থেকে সাম্মানিক এফআরসিপি ডিগ্রি পান ৷ ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তিনি সেই ডিগ্রি ব্যবহার করেন ৷ তিনি পালটা পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন ৷ ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেছিলেন ৷ পাশাপাশি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এই ইস্যুতে তিনি শেষপর্যন্ত লড়াই করে যাবেন ৷ এর পরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ৷ সোমবার হাইকোর্ট মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্দেশ খারিজ করে দিল ৷ ফলে হাইকোর্টের নির্দেশে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেলেন শান্তনু ৷ তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর প্রতিক্রিয়া মেলেনি ৷

