ইরানের উপরে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পাল্টা আন্তর্জাতিক দুনিয়ার জ্বালানির লাইফলাইন কেটে দেওয়ার হুমকি দিলেন ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি। সোমবার গভীর রাতে আক্রমণাত্মক সুরে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ গেলেই আমরা আগুন ধরিয়ে দেব।’ পাশাপাশি তেলের পাইপলাইনে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইরান আর ওমানের মাঝের সরু জলপথ হরমুজ প্রণালী। এই পথ দিয়েই সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরান থেকে তেল এবং গ্যাস পারস্য উপসাগরে পৌঁছয়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে গোটা দুনিয়ায়। ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমধ্য়েই বাড়তে শুরু করেছে। এর মধ্যেই ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারির হুমকিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা বিশ্বে। কোনও রাখঢাক না রেখে তিনি সরাসরি বলেছেন, ‘এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে বেরতে দেব না। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলেই আমরা আগুন ধরিয়ে দেব।’

ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল, যে কোনও সময় বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জলপথ বন্ধ করতে পারে তেহরান। সেটাই সত্যি হল। কিন্তু ইরানের এই পদক্ষেপ কেন ভারতের জন্য চিন্তার? ভারত সরাসরি ইরান থেকে খুব বেশি তেল আমদানি না করলেও ভারতকে নিজের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি তেল বাইরে থেকে কিনতে হয়। এই আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। ইরাক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব, সংযুক্ত আমিরশাহি, কুয়েতের মতো দেশ থেকে দিনে আসে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লক্ষ ব্যারেল তেল। শুধু তা-ই নয়, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশও এই পথে আমদানি করা হয়। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ থাকলে পোট্রোপণ্যের জোগান আটকাবে। ফলে বাড়তে পারে দাম। এর জেরে বিপাকে পড়তে পারে ভারত।